যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ডিবি ও কোতোয়ালী পুলিশ যশোর বিমানবন্দরের কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করে। শাহারুল ইসলাম ছাত্রলীগ যশোর সদর উপজেলা কমিটির তৎকালীন আহ্বায়ক রিপন ওরফে দাদা রিপন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি।
শাহারুলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মারপিটসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। শাহারুলকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে আওয়ামী লীগের শাহীন চাকলাদার অনুসারীরা বৃহস্পতিবার সকালে যশোর শহরে দফায় দফায় মিছিল বের করে। সর্বশেষ বেলা ১১টা থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করছে তারা। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় শহরে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, রাত ১২টার দিকে যশোর বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় ডিবি ও যশোর কোতয়ালী পুলিশ অবস্থান নেয়। শাহারুল ওই পথ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। শাহারুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের শুকুর মন্ডলের ছেলে।
২০১০ সালের ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে রিপন ওরফে দাদা রিপন সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। কমিটি গঠন নিয়ে বিবাদে সেদিন যশোর শহরে ব্যাপক বোমাবাজি ও গোলাগুলি হয়। পরদিন ১৪ মার্চ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে শহরের দিকে আসার পথে নিজ দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন রিপন। রিপনের বাবা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় মামলা করেন।
২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর পুলিশ শাহারুল ইসলামসহ ৭ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। রিপন হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও শাহারুল প্রকাশ্যে থাকতেন। দলীয় কর্মকাণ্ডের সক্রিয় অংশগ্রহণও তার ছিল। রিপন হত্যা ছাড়াও শাহারুলের বিরুদ্ধে আরবপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, শিক্ষককে মারপিটসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।