অ্যাশেজ হারের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন এগারতম ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে শিরোপার স্বাদ দেয়া মাইকেল ক্লার্ক। এরপর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন স্টিভেন স্মিথ। পাকাপাকিভাবে গুরুদায়িত্ব শুরুর আগে সাবেক দুই দলনেতা রিকি পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্কের কাছ থেকে অধিনায়কত্বের টিপস নিয়েছেন স্মিথ। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের অধিনায়কত্ব শুরুর আগে পন্টিং ও ক্লার্কের কাছ থেকে টিপস নিয়েছি আমি। তাদের টিপস আমার দারুণ কাজে আসবে।’
২০০২ সালে পাকাপাকিভাবে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব পান রিকি পন্টিং। এরপর তার নেতৃত্বে দল শুধুই পেয়েছে সাফল্য। ২০০৩ ও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপও চ্যাম্পিয়ন হয় অসিরা। আর পন্টিং-এর পরিসংখ্যানও বেশ উজ্জ্বল। ৭৭ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ৪৮ ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি। আর ২২৯ ওয়ানডেতে ১৬৪ জয় ও ১৭ টুয়েন্টি টুয়েন্টিতে ৭ জয়ের স্বাদ অসিদের দিয়েছেন পন্টিং।
পন্টিং-এর মতোই উজ্জ্বল ক্লার্কের অধিনায়কত্বের রেকর্ডও। ৪৬ টেস্টে ২৩ জয়, ৭৪ ওয়ানডেতে ৫০ জয় ও ১৮ টি-২০তে ১২ জয়ের স্বাদ দলকে দিয়েছেন ক্লার্ক। পন্টিং যেখানে দু’বার বিশ্বকাপের শিরোপার দিয়েছেন সেখানে ২০১৫ সালের ট্রফি অসিদের এনে দিয়েছেন ক্লার্ক। আর এই দু’জনের অধিনায়কত্বের পারফরমেন্সে মুগ্ধ অসিদের নতুন দলনেতা স্মিথ।
পাকাপাকিভাবে নিজের দায়িত্ব শুরুর আগে পন্টিং ও ক্লার্কের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছেন স্মিথ। পন্টিং-এর কাছ থেকে কি পরামর্শ নিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোন ধরনের চাপ নিতে নিষেধ করেছেন পন্টিং। খেলোয়াড় হিসেবে নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে হবে। ব্যাটিং-এর সময় ব্যাটিং আর অধিনায়কত্ব করার সময় সেটিতে ভালোভাবেই মনোযোগ দিতে হবে। দলের অন্যান্য সতীর্থদের সাথে সম্পর্কটা ভালো রাখতে হবে। তাদের সাথে ওয়ান টু ওয়ান আলোচনা করতে হবে সব সময়। তাদের সমস্যা ও ইচ্ছাগুলো জানতে হবে এবং উত্সাহ দিতে হবে সর্বদা।’
আর ক্লার্কের সাথে কি আলোচনা হয়েছে এ বিষয়ে স্মিথ বলেন, ‘অ্যাশেজ শেষ হবার পরই ক্লার্কের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে আমার। শুধুমাত্র অধিনায়কত্বই নয়, দলের অনেক বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে ক্লার্কের সাথে। আমি ভাগ্যবান, ক্লার্কের অধীনে অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে পেরেছি। এসময় অনেক কিছু শিখতেও পেরেছি। আশা করছি, এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবো এবং অস্ট্রেলিয়াকে অনেক বেশি সাফল্য এনে দিতে সক্ষম হবো। তবে পন্টিং ও তার মধ্যে অনেক পার্থক্য। দু’জনের দু’ধরনের স্টাইল।’
খবর বাসসের।