আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে

বান্দরবানের থানচির দুর্গম জঙ্গলে সেনা ও বিমান বাহিনী এবং বিজিবির যৌথ অভিযান গতকাল বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল। মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ ‘আরাকান আর্মি’র সন্ত্রাসীদের হটিয়ে দিতে এই যৌথ অভিযান চলবে বলে জানা গেছে। এদিকে, রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার তাইতং পাড়া থেকে আরাকান আর্মির সহযোগী সন্দেহে অংনু ইয়ান রাখাইন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এসময় তার কাছে থাকা আরাকান আর্মির পোশাক, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও ঘোড়া জব্দ করে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।

 
গত বুধবার বিজিবির বিওপি ও টহল দলের উপর হামলার পর অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। সেনা ও বিমান বাহিনী এবং বিজিবির এই যৌথ অভিযান সম্পর্কে গতকাল ঢাকায় বিজিবি সদর দফতরে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রেস ব্রিফিং করেন। এসময় তিনি বলেন, একই সময়ে বিজিবির টহল ও বিওপি ক্যাম্পের ওপর হামলা চলে। আরাকান আর্মিকে প্রতিরোধে বিজিবির সাথে সেনা ও বিমান বাহিনী অংশ নেয়। যার কারণে আরাকান আর্মিকে হটিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। যৌথবাহিনীর এই অভিযানে আরাকান আর্মির ৭ থেকে ১০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদেরকে আরাকান আর্মির সদস্যরা টেনে ঐ এলাকা থেকে নিয়ে যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে। বিজিবিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাউকে টেনে নিয়ে যাওয়ার আলামত পেয়েছে। ঐসব স্থান থেকে বিজিবি আরাকান আর্মির ব্যবহূত গুলি, গুলির খোসা, মর্টার শেলের খোসা ও পোশাক উদ্ধার করেছে।
 
আমাদের রাঙামাটি সংবাদদাতা জানান,
 
রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, বুধবার গভীর রাতে উপজেলা সদরের একটি তিনতলা বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অংনু ইয়ানকে আটক করা হয়। গতকাল দুপুরে ওই বাড়িটি সিলগালা করে দেয়া হয়। বাড়িটির প্রহরায় নিয়মিত সেনা-পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অংনু ইয়ান রাখাইনকে দোভাষী দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জানা গেছে, অংনু ইয়ান আরাকান আর্মির বোমা তৈরির কারিগর। এর আগে বোমা বিস্ফোরণে তার দুই হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
 
রাজস্থলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অহিদ উল্লাহ সরকার জানান, মিয়ানমারের নাগরিক অংনু ইয়ান রাখাইনের গ্রেফতারের ঘটনায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাস দমন আইনে থানায় দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে।
 
বান্দরবান সংবাদদাতা জানান, গতকাল দুপুরে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পিএসও মেজর জেনারেল মইনুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনালের শফিকুর রহমান, বান্দরবানের সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সামরিক হেলিকপ্টারে করে যৌথ বাহিনীর অভিযান পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা যেসব এলাকায় বিজিবি’র সাথে মিয়ানমার সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়েছিল সেসব এলাকা এবং দুর্গম সীমান্ত এলাকার নতুন স্থাপিত বিওপিগুলো হেলিকপ্টারে ঘুরে দেখেন। বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ওয়ালিউর রহমান জানান, দুর্গম এলাকায় বিজিবির সাথে সেনা বাহিনী অভিযানে সহায়তা করছে।
 
গতকাল সন্ধ্যায় বিজিবি সদর দফতরে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন,বড় মোদকসহ ঐ এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম। এর তিন দিকে মিয়ানমার বলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো একদিকে ঢুকে অপরদিক দিয়ে সহজে বের হয়ে যেতে পারে। এখানে বিজিবির কোন স্থায়ী ক্যাম্প নেই। এ কারণে ওই এলাকার সীমান্ত পুরোটাই অরক্ষিত। অরক্ষিত ঐসব সীমান্ত পয়েন্টে প্রস্তাবিত বিওপিগুলো স্থাপন করা সম্ভব হলেই বিজিবির নিয়ন্ত্রনে আসবে। তখন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো বাংলাদেশকে করিডোর হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। দুর্গম হওয়ার কারণে তাদের পরবর্তী অভিযানেও বেশ সময় লাগে। যে টহল টিমটি অ্যাম্বুশের মধ্যে পড়েছিল, তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। বাংলাদেশের ভূখন্ডে আরাকান আর্মির স্থায়ি ক্যাম্পের সম্ভবনা নাকচ করে বলেন, সীমান্ত অরক্ষিত বলেই মাঝে মধ্যে এসব বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন প্রবেশ করে। তবে তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ যে সোচ্চার-এ বিষয়টি এবার মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বুঝতে পেরেছে। মিয়ানমার প্রতিবারই বিচ্ছিনতাবাদী সংগঠনগুলোকে বাংলাদেশের মদদ দেয়ার অভিযোগ তোলে। কিন্তু বাংলাদেশ কখনই ওইসব বিচ্ছিনতাবাদী সংগঠনকে প্রশ্রয় দেয় না। এই হামলার মধ্যদিয়ে আরাকান আর্মিতে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়টি মিথ্যা প্রমানিত হলো।
 
কি কারণে আরাকান আর্মি হামলা চালিয়েছিল-এ ব্যাপারে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আক্রমনের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তবে প্রাথমিকভাবে ১০ টি ঘোড়া জব্দ করায় আরাকান আর্মির এ হামলা চালিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ১০ টি ঘোড়া আরাকান আর্মিতে লজিস্টিক পরিবহনে ব্যবহূত হতো। জব্দ করায় তারা সতর্ক করার জন্য এই হামলা চালাতে পারে।