ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত পাঁচ দিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার চরাঞ্চলের পাশাপাশি প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, হঠাৎ করে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় ৭ শতাধিক পরিবার। একই সঙ্গে বন্যার পানিতে প্রায় কয়েক শত একর জমির আমন ও রোয়া ধান ডুবে যাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মৃধা জানান, তার ইউনিয়নে শহর মোল্যার ডাঙ্গী, ছাহের মোল্যার ডাঙ্গী, রেজি চোকদারের ডাঙ্গী, উত্তর নবাবগঞ্জ ও চৌধুরী ডাঙ্গীর প্রায় ৩০০ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে। বেশ কিছু পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে এবং ডুবে গেছে অনেক ফসলি জমির ধান। আকস্মিক বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বাইরে মাথাভাঙ্গা, হাজীডাঙ্গী, বালিয়াডাঙ্গী ও টিলারচরসহ প্রায় ১ শত পরিবার ও চর হরিরামপুর ইউনিয়নের শালেপুর গ্রাম, আমিনখার ডাঙ্গী, আরোজখার ডাঙ্গী, ছমির ব্যাপারীর ডাঙ্গী ও নমুর ছামে ১ শত পঞ্চাশ পরিবার, গাজিরটেক ইউনিয়নের বিন্দুডাঙ্গী, চর হোসেনপুর, জয়দেব সরকারের ডাঙ্গী ও মধু ফকিরের ডাঙ্গীতে প্রায় ১ শত পঞ্চাশ পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে বসত ভিটে ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব। অনেকে পরিবার পরিজন ও গরু ছাগল নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিলেও এখন পর্যন্ত বানভাসি মানুষের নিকট পৌঁছায়নি কোন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যের বিষয়ে জানতে চাইলে চরভদ্রাসন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসন থেকে বন্যা কবলিত এলাকা সার্ভে করে দেখা গেছে- সার্ভে রিপোর্ট ও স্থানীয় চেয়ারম্যানদের পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খুব শিগগির সাহায্য পৌঁছে দেয়া হবে।