সাতক্ষীরায় হাসপাতালের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলা

 
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে পরস্পরের যোগসাজশে ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. এস জেড আতিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুদকের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দুইটি করেন।
 
১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার মধ্যে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাবদ ৭ কোটি ৫১ লাখ ২১ হাজার ৫০১ টাকা ও  সদর হাসপাতাল বাবদ ৬ কোটি ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ২৪ টাকা আত্মসাতের পৃথক অভিযোগে সদর থানায়  মামলা দুইটি দায়ের করা হয়।
 
মামলার আসামিরা হলেন-সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ও পরিচালক ডা. এস জেড আতিক, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট রুহুল কুদ্দুস, জুনিয়র কনসালট্যান্ট নারায়ণ প্রাসাদ সান্যাল, সিনিয়র কনসালট্যান্ট একেএম জাহাঙ্গীর আলম, আবাসিক মেডিকেল অফিসার মারুফ হাসান, জুনিয়র কনসালট্যান্ট রহিমা খাতুন, মহাখালী ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইন্টেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের অ্যাসিসট্যান্ট রিপায়ার হাবিবুর রহমান, সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদফতরের সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা একে এম সোহরাব হাসান, কুষ্টিয়া গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১ এর হারুন-অর-রশীদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপ-সচিব আবদুল মালেক এবং সেগুন বাগিচা মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটার আবদুস সাত্তার। এর আগে দুদকের সভায় সংশ্লিষ্টদের নামে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়া হয়।
 
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র ক্রয়ের লক্ষ্যে অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা অবৈধভাবে লাভবান হয়ে বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে মূল্য তালিকা তৈরি করেন। সে অনুযায়ী দরপত্র আহবান করা হয় এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অবৈধভাবে লাভবান হয়ে বাজার দর যাচাই না করেই ঠিকাদার মেসার্স মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। পরে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিলও উত্তোলন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। এবং সেখানেও অবৈধভাবে লাভবান হন সংশ্লিষ্টরা। এই দুর্নীতির মাধ্যমে ৭ কোটি ৫১ লাখ ২১ হাজার ৫০১ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি পরবর্তীতে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে ।
 
একই প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারি মেশিনারিজ সরবরাহের ক্ষেত্রে উল্লিখিত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ৬ কোটি ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ২৪ টাকা আত্মসাত করেন। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করে দুদক।
 
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।