শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নাব্য সংকট: ড্রেজিং শুরু শনিবার

শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌ চলাচলের নাব্যতা সংকট দূর করতে শনিবার থেকে পদ্মার লৌহজং টানিংয়ে খনন কাজ শুরু করবে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ঠিকাদারী চাইনিজ প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করর্পোরেশন। শুক্রবার পদ্মা সেতুর দোগাছি সার্ভিস সেন্টারে বিশেষজ্ঞ দল যৌথ ও চুড়ান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পদ্মা সেতুর তত্ত্বাধায়ক প্রকৌশলী (নদী শাসন) সারফুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান সিএমসি, বিাইডব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) আতাহার আলী সর্দার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সাইদুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলৗ (ড্রেজিং) মো. সুলতান আহমেদ খান, উপ-পরিচালক (সার্ভে) মো. আব্দুল রউফ, এডিএম কামাল হোসেন. সিনো হাইড্রো প্রতিনিধি জিয়ামিন জি, জন লিং(ডিপিএম) প্রমূখ।


IMG0

সভা শেষে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) সুলতান আহমেদ খান বলেন, পদ্মা সেতুর দোগাছি সার্ভিস সেন্টারের অফিসে শুক্রবার বিআইডব্লিউটিএ, সিনো হাইড্রো, বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটি ও জরিপকারকদের নিয়ে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত তিন দিন ধরে পদ্মায় ইকোবিম সাউন্ট সিস্টেমসহ হাইড্রোগ্রাফি জরিপ চালানো হয়। জরিপ কাজ পর্যালোচনা করে সভার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত মতে শনিবার হতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের পদ্মার লৌহজং টানিং পয়েন্টের ডুবো চরটি কেটে অপসারণ করবে পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশনের দুটি বড় ড্রেজার। লৌহজং টানিং পয়েন্টের ওই এলাকায় প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ ঘন ফুট পলি মাটি অপসারণ করতে হবে। সিনো হাইড্রোর প্রতিটি ড্রেজার প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার মাটি খনন করতে সক্ষম। সে হিসেবে দুটি ড্রেজার প্রতিদিন কম করে হলেও ৫০ হাজার পলি মাটি অপসারন করবে। এ ক্ষেত্রে ৫-৬ লাখ মাটি খনন করতে ১০-থেকে ১২ দিন সময় লাগবে। তবে চ্যানেলের মাঝে বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ও ভাড়া করা মোট ৪টি ড্রেজার কাজ করছে। এগুলো স্রোতের গতি কমলে চ্যানেলের গভীরতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাবে। কিন্তু অাপাতত লৌহজং টানিং পয়েন্টের ওই ডুবো চরটি কেটে দিবে সিনো হাইড্রোর ড্রেজার।
IMG1
তিনি আরও বলেন, লৌহজং টানিংয়ের ওই পয়েন্টে পদ্মায় এখন পানি রয়েছে ৯ ফিট। বড় বড় রো রো ফেরি চালাতে পানির প্রয়োজন হয় সর্বনিন্ম সাড়ে ৭ ফিট। তাই এই মুহুর্তে চ্যানেলে কোন নাব্যতা সংকট নেই। এ পরিমান পানি দিয়ে সব ধরণের ফেরি চলাচল সম্ভব। আসলে নাব্যতা সংকট নয়। পদ্মায় এখন প্রচন্ড স্রোত। ৭ থেকে ৯ নটিক্যাল মাইল বেগে পদ্মা নদীতে এখন  স্রােত প্রবাহিত হচ্ছে। স্রােতের প্রতিকুলে মান্ধতা আমলের ফেরির ইঞ্জিনগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেনা। শুধু মাত্র কুসুমকলি ও ক্যামেলিয়া নামে দুটি নতুন ফেরি প্রতিদিন চলাচল করছে। ওই দুটি ফেরির ইঞ্জিন শক্তিশালি বলেই ফেরি দুটি প্রচন্ড এই স্রােতের প্রতিকুলেও চলাচল করছে।

শিমুলিয়াস্থ বিআইডব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আশিকুজ্জামান জানান, নদীতে এই মুহুর্তে কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পানিতে ফেরি চলাচল সম্ভব হলেও ৭ নটিক্যাল মাইল স্রােতের প্রতিকুলে ফেরিগুলো ইঞ্জিনের গতি কুলিয়ে উঠতে পারছেনা। তাই শুধু নতুন ফেরি শক্তিশালি ইঞ্জিন বিশিষ্ট কুসুমকলি ও ক্যামিলিয়া ফেরি দিয়ে কোন মতে পারাপার অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে তিন সপ্তাহ ধরে রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর পর গত আট দিন ধরে সকল প্রকার ফেরি চলাচল প্রায় বন্ধ। দুটি ফেরি এখন ভরসা। ফেরি পারাপারে অচলবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে প্রতিদিন সরকার ২০ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত সরকার এ খাত থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।