আটক আরাকান আর্মির সদস্যকে জেল হাজতে প্রেরণ

 
রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার তাইতং পাড়ার থেকে মায়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সহযোগী সন্দেহে আটক অংনু ইয়ান রাখাইনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
 
শুক্রবার রাঙ্গামাটি জেলা জজ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলী আহসান তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সকালে রাজস্থলী থানা পুলিশ কড়া পাহারায় তাকে রাঙ্গামাটি জেলা জজ আদালতে হাজির করা হয়। 
 
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, আরাকান আর্মির সাথে ডা. রেনাইজোর গভীর সম্পর্ক ছিল। তার বিলাসবহুল বাড়িটি আরাকান আর্মির আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সংগঠনটির কেউ অসুস্থ হলে এই বাড়ীতে রেখেই তার চিকিৎসা করানো হতো বলে ধারনা এলাকাবাসীর।
 
IMG0
 
সূত্র জানায়, অংনু ইয়ান রাখাইন গত এক মাস আগে এই বাড়িতে আনা হয়। তাকে চট্টগ্রামে চিকিৎসা দেয়ার পর বাড়িটিতে তাকে একটি ঘরে তালা বদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়।
 
আটককৃত অংনু ইয়ান রাখাইন জানান, সম্প্রতি তিনি রাজস্থলী উপজেলায় ডাক্তার বাড়িতে আসেন। তিনি চট্টগ্রামের বেলভিউ হাসপাতাল ও ফয়েজলেক চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অংনু ইয়ান রাখাইন জানান যে তিনি ঘর থেকে বের হতেন না। তাকে সময় মতো এসে খাবার দিয়ে যেতে একজন।
স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, স্থানীয় ডা. রেনাইজো একজন ডাক্তার। এলাকায় দানবীর হিসাবে পরিচিতি আছে তার। ১৯৯৬ সালে তিনি রাজস্থলী উপজেলায় আসেন। এর পর থেকে তিনি স্থানীয় জানগণের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন।
 
গ্রামবাসী জানান, তিনি এই গ্রামের বিয়ে করেন। বর্তমানে তার স্ত্রী সহ তিনি নেদারল্যান্ডে অবস্থান করছে। তারা জানান, তিনি যে এই আরাকান আর্মির সাথে জড়িত তা তারা কখনোই জানতে পারেননি।
 
গ্রামবাসী আরো জানান, 'ডা. রেনাইজো এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন। তার এখানে কিছুদিন আগে আমরা ১৫ টির মতো ঘোড়া দেখেছি। কিন্তু কিছুদিন পর এই ঘোড়া গুলো আর দেখা যায়নি। বর্তমানে এখানে মাত্র ২ টি ঘোড়া রয়েছে।'
 
এদিকে রাজস্থলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, গত বুধবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে স্থানীয় ডা. রেনাইজো নামক এক নেদারল্যান্ডস প্রবাসীর বাসায় সেনা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকের উদ্ধার করে। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর আর কোন আরকান আর্মি এই এলাকায় আছে কিনা এবং কোন ধরনের নাশকতার চেষ্টা হচ্ছে কিনা তা সনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
 
এদিকে রাজস্থলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী জানান, রাজস্থলী উপজেলার এতো সুন্দর বাড়ি আর কারো নেই। আসলে আমরা কখনোই এই লোকটির সম্পর্কে ভুল ধারনা জন্মানোর কোন উপায় ছিলো না। তিনি বলেন, ডা. রেনাইজো নেদারল্যান্ডস প্রবাসী তাই তার এতো বড়ো অট্টালিকা থাকতেই পারে। তিনি গ্রামের দানবীর হিসাবেও পরিচিত লাভ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে।
 
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অং ইউ স্বীকার করেছেন যে তিনি আরাকান আর্মির সহযোগী। তাঁর বাড়ি আরাকানে। বাড়ি থেকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র জব্দ করা হয়।