নদী থেকে অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে শিবপুর উপজেলার পালপাড়া ও পাশ্ববর্তী আইয়ূবপুর এলাকার নদীর তীরবর্তী শত শত বাড়ীঘর নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। এলাকার প্রভাবশালী মহল ড্রেজারের সাহায্যে স্থানীয় কলাগাছিয়া নদী থেকে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে নদীর তীরবর্তী এলাকাটিকে বালুর পাহাড়ে রূপান্তরিত করেছে।
পালপাড়া এলাকার কলাগাছিয়া নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা চান মোহন রবিদাস জানান, এলাকার প্রভাবশালী তাদের দলবল নিয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একচেটিয়া ভাবে ড্রেজারের সাহায্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বালুর পাহাড় তৈরী করেছে। তাদেরকে আমাদের বসত বাড়ী ও জায়গা জমি নদীতে বিলিন হয়ে যাবার কথা জানালে, তারা আমাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছে। বলেছে তোরা বাঁচতে চাইলে এলাকা ছেড়ে চলে যা। এলাকার প্রভাবশালী জনৈক ব্যক্তি ও বালু ব্যবসায়ী, চানমোহন রবিদাসের জায়গা জমির উপর বালুর পাহাড় তৈরি করে ফেলেছে এবং তৎসংলগ্ন একটি গভীর পুকুর বানিয়ে প্রতিদিন পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করায় পুকুর সংলঘ্ন চান মোহন রবিদাসের বাড়ীটিও ভেঙ্গে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
ইতিপূর্বে গভীর পুকুরে পড়ে বাবুল রবিদাস (৪০) নামে এক ব্যক্তি মারা যায়। তারপরও নদী ও পুকুর থেকে সমান তালে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং সে বালু ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, শিবপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে এবং মোটা অংকের টাকা কামাচ্ছে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা। এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা এলাকাবাসী। ভূক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে বালু দস্যুদের হাত থেকে তাদের জায়গা-জমি ও বসতভিটা রক্ষা করার জন্য যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নিকট জোর আবেদন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফ উল ইসলাম মৃধা জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এভাবে অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে কলাগাছিয়া নদীর তীববর্তী পালপাড়া বাজার, পালপাড়া গ্রাম, ঘাসিরদিয়া, ব্রাহ্মন্দী, সফরিয়া, বাজনাব, বান্ধারদিয়া, খলাপাড়া প্রভৃতি গ্রামের বসতবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু পদক্ষেপ আশু হস্তেক্ষেপ কামনা করছেন।