বান্দরবানের লামা-আলীকদম দুই উপজেলার প্রায় আড়াই লক্ষ লোকের যাতায়াত যে কোন মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ দুইটি বেইলি ব্রিজের কারণে। লামা ফাঁসিয়াখালী এলাকায় অবস্থিত বেইলিব্রিজের নীচ থেকে মাটি সড়ে যাওয়ায় ব্রিজিটি দাঁড়িয়ে আছে অনেকটা শূণ্যের উপর।
অপর দিকে ইয়াংছা বাজার এলাকায় অবস্থিত ব্রিজটির কলাম ও পাটাতনসহ মূল্যবান মালামাল খুলে চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় পুরো ব্রিজটি এখন নড়বরে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ দুইটি দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক, বাসসহ শতশত ভাড়ি যানবাহন চলাচল করছে।
এদিকে বান্দরবান সড়ক ও জনপদ বিভাগ ব্রিজগুলো মেরামতের উদ্যোগ না নিয়ে শুধুমাত্র লাল পতাকা উড়িয়েই দায় সেড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবান সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউছুপ বলেন, এখন বেইলি ব্রিজ মেরামত করার মতো আমাদের হাতে কোন বরাদ্ধ নেই। তারপরও সওজের নিজস্ব লোক ও বাইরের মিস্ত্রি দিয়ে যতটুকু সম্ভব ব্রীজ দু’টি ঝুঁকিমুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছি।
জানা যায়, উপজেলার চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে শুরু করে দুর্গম পাহাড়ের মধ্য দিয়ে তৈরি প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ লামা- আলীকদম-ফাসিয়াখালী সড়ক। দেশের অন্যত্র যোগাযোগের জন্য এ সড়কটি লামা ও আলীকদম উপজেলার জনসাধারণের একমাত্র মাধ্যম। সড়কের লামা ও চকরিয়া সীমান্তের কুমারী এলাকায় অবস্থিত বেইলি ব্রিজটি ঈদের পর থেকে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে ব্রীজটির মধ্যখানে বাঁকা হয়ে গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর ধরে ব্রিজের তলা থেকে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি নির্বিচারে বালি উত্তোলন করায় ব্রিজের উভয় পাশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ব্রীজের নীচের অংশ থেকে ১৮/২০ টি কলাম অজ্ঞাতরা খুলে নিয়ে যাওয়ায় ব্রীজটি মধ্যখানে বাঁকা হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
একই ভাবে সড়কের ইয়াংছা এলাকায় অবস্থিত বেইলি ব্রীজের পশ্চিম পাশে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় এ ব্রিজটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার জানান, পাহাড়ি ঢলের ফলে ব্রিজের উভয় পাশে ভাঙনের সৃষ্টি হওয়ার কারণে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এ ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত কাঠ ও পাথরবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারি যানবাহন চলাচল করছে। এ সকল ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে ভারি যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যে কোন মুহুর্তে উক্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।