বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি: খালেদার আবেদন শুনানির রায় যে কোনো দিন

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির দুর্নীতি মামলা বাতিলে খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। তবে রায়ের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিন ধার্য না করে বিষয়টি অপেক্ষমান রেখেছে আদালত। এ বিষয়ে যে দিন ধার্য হবে সে দিনই রায় ঘোষণা করা হবে।
 
রবিবার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও বিচারপতি আবদুর রবের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখে। আবেদনের পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার রগীব রউফ চৌধুরী শুনানি করেন। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় দুদক এ মামলাটি করে। পরে এ মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। শুনানির পর ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে রুল দেন এবং মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই রুলের শুনানি করেন।

রুল শুনানিকালে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও নিম্ন আদালতে মামলার নথি তলবের নির্দেশনা চেয়ে খালেদার করা দুটি আবেদন গত ২৩ অাগস্ট খারিজ করে দেয় আদালত। ওইদিন আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ৩০ অাগস্ট দিন ঠিক করে দেন। এর আগে দশ কার্যদিবস রুলের ওপর শুনানি হয়।

খুরশীদ আলম খান বলেন, রুলের ওপর শুনানি শেষে হয়েছে। আদালত রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছেন। রগীব রউফ চৌধুরী বলেন, এখন যে কোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।

বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার মন্ত্রিসভার ১০ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে খনি দুর্নীতির মামলা হয়। ওই বছর ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেয় দুদক। চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অফ চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলায়। খালেদা মামলাটি বাতিলের আবেদন করলে ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর হাই কোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে।

মামলাটি কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও দেয়া হয়। হাই কোর্টের ওই আদেশ আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় আটকে যায় বিচার। সাত বছর পর চলতি বছরের শুরুতে দুদক মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নিলে হাই কোর্টের দেয়া রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। এর আগে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে খালেদা জিয়ার করা দুটি রিট আবেদনের রুলের চূড়ান্ত শুনানি  শেষে ৫ অাগস্ট হাই কোর্ট রুল খারিজ করে রায় দেয়। সেইসঙ্গে মামলার কার্যক্রমের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়। এই রায়ের অনুলিপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া নাইকো দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে করা খালেদা জিয়ার আবেদনেও একই রায় এসেছে। গত ১৮ জুন ওই রায়েও তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। ফোকাস বাংলা।