ক্রিকেটের ছোট ভার্সন, টুয়েন্টি টুয়েন্টিতে দেড় বছর পর দেখা হচ্ছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার। সফরের একমাত্র ম্যাচে সোমবার মুখোমুখি হবে এই দু’দল। কার্ডিফে বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় শুরু হবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার রোমাঞ্চকর টি-২০ ধামাকা।
অ্যাশেজের রোমাঞ্চ নিয়ে গত জুনে ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখে অস্ট্রেলিয়া। লক্ষ্য ছিলো অ্যাশেজের সেই ছোট্ট ট্রফিকে হাতের মুঠোয় রাখা। কিন্তু দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হাতের মুঠো থেকে সেই ছোট্ট অ্যাশেজ ট্রফিটি দখলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। হয়তো এখনো অ্যাশেজ জয়ের রোমাঞ্চের ঘোড় কাটেনি ইংলিশদের।
কিন্তু এর মাঝেই আবারো ব্যাট-বলের লড়াইয়ে আবহ হাজির দুই দলের সামনেই। বড় ফরম্যাট থেকে সরাসরি ছোট ফরম্যাটে। এর চেয়ে বড় কথা প্রায় দেড় বছর পর টি-২০ ক্রিকেটে একে অন্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
সর্বশেষ ২০১৪ সালে সিডনিতে দেখা হয়েছিলো ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার। ঐ সফরে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলেছিলো স্বাগতিকরা। শেষ ম্যাচটি তো অবশ্যই, এমনকি ঐ সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতেও ছিলো অসিরা।
তবে ঐ স্মৃতি, অথবা ঐ অভিজ্ঞতা মোটেও কাজে দেবে না এবার ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়াকে। কারণ দীর্ঘদিন পর এই ফরম্যাটে মুখোমুখি হচ্ছে তারা। আসলে চলতি সফরের এই একমাত্র টি-২০ ম্যাচটি ওয়ানডে সিরিজের রিহার্সেল মাত্র। কারণ এই টি-২০ ম্যাচ শেষেই পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে দু’দল।
একমাত্র টি-২০ ম্যাচটি যে, ওয়ানডে সিরিজের রিহার্সেল তাও বেশ ভালোই জানেন ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা। টি-২০ সিরিজ নিয়ে নিজের ভাবনা জানাতে গিয়ে ইংলিশ দলপতি ইয়োইন মরগান বলেন, ‘ওয়ানডে সিরিজের আগে নিজেদের তৈরি করার বড় মাধ্যম এই টি-২০। এখানে ভালো ফল করতে পারলে, ওয়ানডেতে ভালো খেলার আত্মবিশ্বাসটা অনেকখানি বেড়ে যাবে আমাদের। অ্যাশেজের ফল নিয়ে কোন ভাবনাই এখন আর আমাদের মধ্যে নেই। সেটা সুখ-স্মৃতি ছিলো। সেটা অন্য ধরনের ক্রিকেট। টেস্টের সাথে অন্য ক্রিকেটের কোন মিল নেই। তবে টি-২০ ও ওয়ানডের মধ্যে কিছুটা হলেও মিল আছে। তাই ওয়ানডে সিরিজের আগে টি-২০ ম্যাচটি আমাদের ভালো উপকার দেবে।’
মরগানের মত একই কথা বললেন অস্ট্রেলিয়ার নয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। তবে প্রস্তুতির দিক দিয়ে নিজেদের বেশি এগিয়ে রাখছেন তিনি, ‘আমরা অবশ্য আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ ইতোমধ্যে খেলেছি। ঐ ম্যাচ থেকেও অনেক কিছু জানতে পেরেছি আমরা। আর ওয়ানডে সিরিজে এই টি-২০ ম্যাচটিও বেশ ভালো কাজে দিবে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই ম্যাচটিও জিতে নেয়া।’
টি-২০ ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ১২ বার মুখোমুখি হয়েছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। জয়ের আনন্দটা বেশিই করেছে অসিরা। ৭টি ম্যাচ জিতেছে তারা। আর ইংল্যান্ডের জয় ছিলো ৪ ম্যাচে। ১টি ম্যাচ হয়েছিলো পরিত্যক্ত।
ইংল্যান্ড স্কোয়াড (সম্ভাব্য) : ইয়োইন মরগান (অধিনায়ক), মঈন আলী, স্যাম বিলিঙ্গস, জস বাটলার (উইকেপরক্ষক), স্টিভেন ফিন, এ্যালেক্স হেইলস, আদিল রশিদ, জেসন রয়, বেন স্টোকস, রিসি টপলি, জেমস ভিন্স, ডেভিড উইলি ও ক্রিস ওয়াকস।
অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াড (সম্ভাব্য) : স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), এ্যাস্টন আগার, জর্জ বেইলি, ক্যামেরন বয়েস, জো বার্নস, নাথান কলটার নেইল, প্যাট কামিন্স, মিচেল মার্শ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, জেমস প্যাটিনসন, মিচেল স্টার্ক, মার্কুস স্টয়েনিস, ম্যাথু ওয়েড (উইকেপরক্ষক), ডেভিড ওয়ার্নার ও শেন ওয়াটসন।