ব্যাংককে হামলার পেছনে মানব পাচারকারীরা

 
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত সপ্তাহে ভয়াবহ বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তি মানব পাচারকারী দলের সদস্য। থাই পুলিশের মুখপাত্র প্রাউত থাভোরনসিরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে থাই কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক দমন অভিযানের জবাবে বোমা হামলাটি চালানো হয়েছে বলে ধারণা করছে দেশটির পুলিশ।
 
শনিবার সকালে বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও বেশ কয়েকটি পাসপোর্টসহ ওই বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয় বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।  এই চক্রের সদস্যরা জাল পাসপোর্ট, মানব পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে থাই পুলিশ।
 
শনিবার সকালে ব্যাংককের পূর্ব উপকণ্ঠের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। অজ্ঞাত একটি স্থানে তাকে সেনা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
 
থাইল্যান্ডের সেনাপ্রধান জেনারেল উদোমদেজ সিতাবুতর বলেন, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রয়োজনীয় তথ্য দিচ্ছে না। ফলে জিজ্ঞাসাবাদে অগ্রগতি হচ্ছে না।’
 
জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র প্রাউত থাভোরনসিরি রবিবার বলেন, সন্দেহভাজন লোকটি একটি মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য। চক্রটি অবৈধ অভিবাসীদের জাল কাগজপত্র জোগাড় করে দেয়। এদের বিরুদ্ধে থাই কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক দমন অভিযানের জবাবে বোমা হামলাটি চালানো হয়েছে।
 
তিনি চ্যানেল ৩ কে টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘চক্রটি অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘গ্রেফতারের সময় সন্দেহভাজন লোকটির কাছে ২০০টি জাল পাসপোর্ট ছিল। চক্রটি জাল নাগরিকত্বের কাগজপত্র তৈরির একটি নেটওয়ার্ক। তারা অবৈধ অভিবাসীদের তৃতীয় কোন দেশে পাঠায়।’
 
১৭ আগস্ট ব্যাংককের ইরাওয়ান মন্দিরে ভয়াবহ ওই হামলা চালানোর পর মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে একজন হলুদ টি-শার্ট পরা তরুণকে পিঠের ব্যাগ রেখে চলে যেতে দেখা যায়। ওই তরুণ ব্যাগ রেখে যাওয়ার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় ২০ জন প্রাণ হারায়।