গাইবান্ধায় বন্যা: বিশুদ্ধ পানি- খাদ্য সঙ্কট

গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে জেলার গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা, পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
 
এদিকে যমুনা নদীর পানি হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র স্রোতে বৃদ্ধি পেয়েছে নদী ভাঙন। গত তিনদিনে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে গোবিন্দপুর গ্রামের চার শ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে আবাদি জমি, বসতবাড়িসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিবন্দী গাইবান্ধার প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানি, খাবার সঙ্কটে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি, টয়লেট ও গো-খাদ্য সঙ্কটে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারিভাবে যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ পর্যন্ত মাত্র দুই শ ১৮ মেট্রিক টন চাল এবং পাঁচ লাখ ৫১ হাজার টাকা দুর্গত মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
 
অপরদিকে বন্যার পানিতে বিদ্যালয় চত্বর নিমজ্জিত থাকায় জেলায় ১১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
 
গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করতোয়ার পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি কমেছে দুই সেন্টিমিটার, যমুনার পানি তিন সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি ছয় সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে এখন বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরো জানান, সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে গোবিন্দপুর গ্রামে ভাঙ্গন এখন কিছুটা কমেছে। এ মুহূর্তে সেখানে ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
 
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আমিরুল ইসলাম জানান, পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় ২৩টি, গাইবান্ধা সদর উপজেলায় ১৫টি, সাঘাটায় ১৭টি, সুন্দরগঞ্জে নয়টি, পলাশবাড়ীতে ১০, সাদুল্লাপুরে তিনটি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২৮ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
 
গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, জেলার সাত উপজেলার ৩৩০টি গ্রামের দুই লক্ষ ১৮ হাজার আট শ ২২ জন পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ৩৮ হাজার ছয় শ ৮৬ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ৮৭ কিমি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।