ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় পাচারকারীরা

 
উখিয়া সীমান্তের চিহ্নিত পাচারকারীর সাথে যুক্ত হয়েছে মৌসুমী পাচারকারী চক্র। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নিত্যপণ্য পাচারের বিনিময়ে সেখান থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ও নিম্নমানের প্রসাধনী।
 
সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিত্যপণ্য ও মাদক পাচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলেও দুই ঈদকে এসব পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে চোরাই পণ্য আদান-প্রদানের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।
 
সম্প্রতি ঘুমধুম ও বালুখালী বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার কসমেটিক সামগ্রী ও বোতলজাত মাদকদ্রব্যসহ ইয়াবা উদ্ধার করেছে।
 
সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে বসবাসরত প্রায় আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিক সেদেশের মূল ভূখন্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিনযাপন করছে। এমনকি তারা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যবহার্য পণ্য সামগ্রী না পাওয়ার কারণে এসব রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশি পণ্যের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় তুমব্রু, বালুখালী, ধামনখালী, থাইংখালী, পালংখালী, ফারিরবিল, আঞ্জুমানপাড়াসহ বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিত্যপণ্য পাচার হচ্ছে। তবে পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পাচার বেড়েছে বলে দাবি করছেন সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত গ্রামবাসী। বিশেষ করে বালুখালী ঘুমধুম হয়ে তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত যেসব নিত্যপণ্য সরবরাহ নিচ্ছে, এসব পণ্যসামগ্রীর সিংহভাগ মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে অভিযোগ উঠেছে।
 
ঘুমধুম বিজিবির নায়েব সুবেদার আতিয়ার রহমান জানান, তুমব্রু বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত চাহিদা পত্রের বিপরীতে ব্যবসায়ীরা মালামাল সরবরাহ করছে। তাই এসব মালামাল পাচার হয়ে গেলেও তাদের করার কিছু নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নেতৃস্থানীয় বেশ কয়েকজন লোক জানান, সীমান্তের জিরো পয়েন্ট তুমব্রু খাল বাজারের সন্নিকটে হওয়ার কারণে সহজেই পাচার হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব পাচারকারী চক্র নাফ নদীর এপার-ওপারে অবাধ বিচরণ করে সেখানে উত্পাদিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার বোতলজাত মাদক দ্রব্য নিয়ে আসছে।
 
বালুখালী বিজিবির সুবেদার মোজাম্মেল হক জানান, গত এক মাসে প্রায় দুই শতাধিক বিভিন্ন ব্রান্ডের বোতলজাত মাদক দ্রব্য উদ্ধার করেছে।
 
এসময় ঘুমধুম বিজিবির সদস্যরা বেশ কিছু পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবি অনুপ্রবেশ ও চোরাইপণ্য পাচার প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় তত্পর রয়েছে।