শিশু অপহরণ করে ১ লাখ টাকায় বিক্রি

নাগেশ্বরীতে নয় বছরের শিশুকে অপহরণের পর পাচারের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপহৃত ওই শিশুটিকে এক লাখ টাকার আশায় অপর এক পাচারকারীর হাতে তুলে দেয়ার স্বীকারোক্তি দিয়েছে ওই যুবক। বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠিয়ে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করে।
 
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সন্তোষপুরে রফিকুল ইসলাম স্বস্ত্রীক টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় একটি চাতালে কাজ করেন। অন্য একটি চাতালে কাজ করেন পার্শ্ববর্তী রামখানার আনছার আলীর ছেলে সাইফুর রহমান (২১) ও তার মা সাহেরা খাতুন (৫০)। তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠায় সাইফুর প্রায়ই তাদের বাড়ি আসা যাওয়া করত। ১৬ জুলাই রফিকুল ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম তাদের ৯ বছরের মেয়ে রুমানা খাতুনসহ দুই ছেলে মেয়েকে বাড়িতে রেখে সন্তোষপুর ইউপি কার্যালয়ে ভিজিডির চাল আনতে যান। এ সুযোগে সাইফুর রহমান তাদের বাড়িতে গিয়ে রুমানাকে ফুসলিয়ে নাগেশ্বরীতে নিয়ে আসেন। সেখানে এক লাখ টাকা পাবার আশ্বাসে ঢাকা নারায়ণগঞ্জের মনছুর আলীর ছেলে এরশাদুল হক (২২) ওরফে রশিদুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। শিশুটির বাবা-মা দুপুরে বাড়িতে ফিরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে মেয়েকে না পেয়ে সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকে প্রচার করেন। ২০ জুলাই তারা নাগেশ্বরী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদের জানায়, ঘটনার দিন শিশু রুমানাকে সাইফুরের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে মেয়েটির পরিবার তাকে সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজতে থাকে। 
 
সংবাদ পেয়ে গত ৩১ আগস্ট সকালে রফিকুল ইসলাম ও শিশুটির চাচা সফিকুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন, নুর মোহাম্মদ সাইফুরকে নারায়ণগঞ্জ কাচপুর মুরগাপাড়া থেকে আটক করে। এ সময় রুমানাকে অপহরণের কথা স্বীকার করে তাকে নাগেশ্বরীতে রাখা হয়েছে বলে জানায়। 
 
গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে বিষয়টি সন্তোপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকুকে জানালে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে রুমানার স্বজনসহ সাইফুরকে পাঠান। সবকিছু শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুরকে নাগেশ্বরী থানায় হস্তান্তর করেন।ওই দিন রাতে রুমানার মা নাজমা বেগম বাদি হয়ে নাগেশ্বরী থানায় সাইফুর রহমান, তার মা শাহেরা বেগম (৫০) ও এরশাদুলকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
 
নাগেশ্বরী থানার ওসি তদন্ত খান মো. শাহরিয়ার বলেন, 'গ্রেফতারকৃত সাইফুকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রুমানাকে অপহরণের কথা স্বীকার করেছে তিনি। জবানবন্দীতে তিনি বলেছে টাঙ্গাইলে পরিচয় হওয়া এরশাদুল ওরফে রশিদুল তাকে এক লাখ টাকার লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করতে উদ্বুদ্ধ করেন। এক লাখ টাকার আশায় রুমানাকে অপহরণ করে এরশাদুলের কাছে দিলেও তিনি কোনো টাকা পায়ননি।'