প্রযুক্তির নানা রঙে রাজপথ রাঙিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইক ২০১৫। রঙ তুলিতে শোভা পেল ইন্টারনেট নির্ভর দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড আইকন। আলোর ঝলকানি, আগুনের খেলা, নিজস্ব ব্র্যান্ড আইকনের সঙ্গে সেলফি তোলা, রাতভর সঙ্গীতানুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে মুখোরিত হলো রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ।
আগামী ৫ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপি আয়োজিত বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইক উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়। বুধবার দিবাগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে প্রযুক্তির রঙে রাজপথ রাঙ্গাতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের রাস্তায় রঙ-তুলি নিয়ে মাততে এসেছিলো হাজারো মানুষ। গভীর রাত পর্যন্ত উম্মুক্ত কনসার্টে গানে গানে উল্লাসও করেছিল সবাই। দেশের সর্ববৃহৎ ইন্টারনেট উৎসবে অংশগ্রহণকারী দেশীয় ইন্টারনেট নির্ভর ব্র্যান্ডগুলো রঙ তুলিতে তাদের নিজস্ব আইকন ফুটিয়ে তোলেন।
IMG0
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের রাস্তায় (মানিক মিয়া এভিনিউ) বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইকের ‘সড়ক অলংকরণ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বক্তব্য রাখেন বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইকের আহ্বায়ক রাসেল টি আহমেদ ও গ্রামীণফোনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব বিকর্ণ কুমার ঘোষ, বেসিসের সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, মহাসচিব উত্তম কুমার পাল, যুগ্ম-মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ শাহ ইমরাউল কায়ীশ, পরিচালক আশ্রাফ আবির, আরিফুল হাসান, নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদ, গ্রামীণফোনের মার্কেটিং কমার্শিয়াল তন্ময় বাশার, মার্কেটিং কমার্শিয়াল মাহবুবুল আলমসহ গ্রামীণফোন ও আইসিটি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেট সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় যেসকল ইন্টারনেট ভিত্তিক পণ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে তাদের পণ্যের লোগো নগরীর প্রধান সড়কে অলংকরণের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমি মনে করি এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজনের ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ ও উৎসাহ বাড়বে। সর্বোপরি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছর ১ কোটি নতুন ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়াতে ইন্টারনেট উইক একটি যুগান্তকারী ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বাস্তবায়িত হবে বর্তমান সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সরকার, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করলে ইন্টারনেট থেকে ভাল কিছু করা সম্ভব। ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের ১১ কোটি কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীকে কাজে লাগিয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আয়োজিত বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইকের মাধ্যমে এই লক্ষ্যমাত্রার গতি ত্বরান্বিত হবে। সুগম হবে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথ।
বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান বলেন, সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ইন্টারনেট পৌছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮৭টি উপজেলায় একযোগে বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইক আয়োজন করা হচ্ছে। এই আয়োজনে বেসিসের সদস্যভুক্ত কোম্পানিসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা সাধারণের সামনে তুলে ধরতে পারবো। এতে একদিকে যেমন সাধারণ জনগনকে ইন্টারনেটের প্রতি আগ্রহী করা হবে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবার প্রসার বাড়বে।
গ্রামীণফোনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় ইন্টারনেট এখন একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ। বেসিসের ‘ওয়ান বাংলাদেশ’ ভিশন ও গ্রামীণফোনের ‘ইন্টারনেট ফর অল’ প্রোগ্রামের অন্যতম লক্ষ্য সারাদেশে ৫ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তৈরিতে বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইক অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। যৌথভাবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত সফল এবং জাঁকজমকভাবে হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।
আগামী ৫ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর হতে যাওয়া দেশের বৃহৎ এই উৎসব আয়োজন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), গ্রামীণফোন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। এই উৎসবে অংশ নিবে ই-কমার্স, ওয়েবপোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও সারাদেশের স্থানীয় মোবাইল ভিত্তিক উদ্যোগ। সারা সপ্তাহজুড়ে এসব উদ্যোগ প্রচার ও প্রদর্শন করা হবে। দর্শনার্থীরা এসব সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি দেখতে ও জানতে পারবেন। ইন্টারনেট উৎসবের অংশ হিসেবে প্রায় অর্ধশত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার এবং দেশের গনমাধ্যমগুলোতে অন্তত ৭টি পলিসি বৈঠকের আয়োজন করা হবে। আর এর মাধ্যমে ইন্টারনেট প্রবৃদ্ধির হার বাড়িয়ে প্রতিবছর নূণ্যতম ১ কোটি ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ানো, সাধারণ জনগনকে আরও বেশি অনলাইন সেবার আওতায় আনাসহ তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটভিত্তিক উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিতকল্পে এগিয়ে যাওয়াও এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বিস্তারিত: www.bangladeshinteet.org ও www.facebook.com/BDInteetWeek ঠিকানায়।