দেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ১৫৯ টাকা

বিদায়ী অর্থবছরের (২০১৪-১৫) ৩০ জুন পর্যন্ত পাবলিক সেক্টরে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৯০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২ লাখ ১ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। জনগণের মাথাপিছু এ ঋণের পরিমাণ ১৬৯ মার্কিন ডলার বা ১৩১৫৯ টাকা। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে নুরজাহান বেগমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে এ তথ্য তুলে ধরেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বা সিআইবি ডাটাবেজে রক্ষিত জুন ২০১৫ মাস ভিত্তিক ৫০ হাজার টাকা ও তদূর্ধ্ব বকেয়া স্থিতিসম্পন্ন ঋণ হিসাব এবং ১০ হাজার টাকা ও তদূর্ধ্ব বকেয়া স্থিতিসম্পন্ন খেলাপি ক্রেডিট কার্ড হিসাবের ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ঋণ খেলাপির সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮১ জন। ঋণ খেলাপি বিষয়ক মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করে ব্যাংক ঋণ দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে  খেলাপি ঋণ আদায়ের বিষয়টি রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে সম্পাদিত অ্যানুয়েল পারফমেন্স কন্ট্রাক্ট (এপিসি) তে উল্লেখ রয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রতিমাসে আদায়ের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে অর্থ ঋণ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে বিচারধীন মামলাগুলো তদারকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি পৃথক টাস্কফোর্স সেল আছে। উক্ত সেলের মাধ্যমে অর্থ ঋণ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে দায়েরকৃত মামলাসমূহের সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণসহ আদালতের নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে পরিপালনের জন্যে সময়ে সময়ে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি হচ্ছে। আদলতের বাইরে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে খেলাপি ঋণের বিপরীতে আদায় ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
 
আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৮ কোটি টাকা। অর্জিত হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার  চেয়ে ১৮৫১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে। এরমধ্যে শুল্ক বিভাগ হতে ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি, মূসক বিভাগ হতে ৪৮ হাজার ২৬৪ কোটি এবং আয়কর বিভাগ হতে ৪৮ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। ফোকাস বাংলা।