আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত ও মন্ত্রিত্ব হারানো আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার বিষয়টি বৃহস্পতিবার সংসদকে অবহিত করে তার নির্বাচনি আসন টাঙ্গাইল-৪ সংবিধান অনুযায়ী শূন্য ঘোষণা করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
আসন শূন্য ঘোষণা সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের পর বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে কমিশন উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানান।
প্রায় এক বছর আগে নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ্ব, মহানবী (সা.) ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের পর সমালোচনার মধ্যে মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারিয়ে দেশে ফিরে গ্রেফতার হয়ে কয়েকমাস কারাবাসের পর জামিন নিয়ে বেরিয়ে গত মঙ্গলবার সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে আসেন লতিফ সিদ্দিকী।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘দশম জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী গত ১ সেপ্টেম্বর সংসদ কক্ষে উপস্থিত হয়ে স্বীয় স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমার কাছে পাঠিয়েছেন। আমি সেটা গ্রহণ করেছি। সংবিধানের ৬৭ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র আমার কাছে আসার সঙ্গে-সঙ্গে তার আসন শূন্য হয়েছে।’
দল থেকে লতিফ সিদ্দিকী বহিষ্কৃত হওয়ার পর তার সংসদ সদস্যপদ থাকা না থাকা নিয়ে জটিলতার নিষ্পত্তিতে শুনানি করছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তিনি পদত্যাগ করায় বিষয়টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেল বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনাররা।
নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক গতকাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আসনটি শূন্য ঘোষণার বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের গেজেট ইসি সচিবালয়ে আসবে। এরপর ওই শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ইসি সভায় বসবে।
প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী আসন শূন্য ঘোষণা থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে (৩ ডিসেম্বর) উপ-নির্বাচন করতে হবে। লতিফ সিদ্দিকী ইতোমধ্যে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এখন আর ভোট নিয়ে তিনি ভাবছেন না।