আলাস্কা উপকূলে প্রথমবারের মতো চীনা সামরিক জাহাজ

 
প্রথমবারের মতো আলাস্কা উপকূলে চীনা সামরিক জাহাজের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে—আলাস্কা উপকূলে ভেসে বেড়ানো জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক সীমানায় রয়েছে। খবর বিবিসির।
 
 
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বুধবার বলা হয়—বেরিং সাগরের আলস্কা উপকূলে সম্প্রতি চীনা নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজ ঘুরতে দেখা গেছে। জাহাজগুলোকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সম্প্রতি জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের জেরে সমুদ্রে কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছে চীন।
 
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র বিল আরবান বলেছেন, ‘বেরিং সাগরে চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএএন) জাহাজগুলোর ঘোরাফেরার ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। এই প্রথম বেরিং সাগরে চীনা জাহাজের উপস্থিতি দেখা গেল।’
 
জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় থাকায় ওগুলোকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না বলেও প্রতিরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
 
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে আলেতিয়ান দ্বীপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে চীনা জাহাজগুলো। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে—ওগুলোর মধ্যে তিনটি যুদ্ধজাহাজ, একটি রসদ সরবরাহকারী ও অপরটি উভচর জাহাজ (স্থলযুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন আলস্কা অঙ্গরাজ্যে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন এমন সময়ই চীনা জাহাজগুলো ওই অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
 
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র বিল আরবান বলেন, ‘আমরা বেরিং সাগরে পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির (পিএলএএন) পাঁচটি জাহাজের ঘোরাফেরার ব্যাপারে সজাগ রয়েছি। এবারই প্রথম আমরা বেরিং সাগরে ‘পিএলএএন’-এর জাহাজ দেখলাম।’
 
তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন মেনে আন্তর্জাতিক নৌসীমায় অভিযান পরিচালনার অধিকার সব রাষ্ট্রেরই আছে, আমরা অবশ্যই এ ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল।’
 
এ দিকে, চায়না ম্যারিটাইম স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক পিটার ডুটন বলেন, ‘এটি চীনা নৌবাহিনীর জন্য বড় অর্জন।’ বিবিসি’কে তিনি বলেন, ইউরেশিয়া অঞ্চলে চীনের সামরিক উপস্থিতি বাড়তে থাকাটা এক অর্থে বিস্ময়কর নয়। তারা সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে ভূমধ্যসাগর এবং জাপান সাগরে সামরিক মহড়া চালিয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় নৌপথেও  তাদের আগ্রহ রয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে তারা আলাস্কার এপথে এসেছে।’
 
সম্প্রতি জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের জেরে সমুদ্রে তত্পরতা বাড়িয়েছে চীন। এবছর চীন সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন করতে প্রতিরক্ষা ব্যয়ও বাড়িয়েছে। এতে করে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে।