ডিজিটাল অঙ্কে গানের বেসামাল বেচাকেনা!

অডিও ইন্ডাষ্ট্রির শিল্পীরা এখন পুরোপুরি ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের আয় উপার্জনের সব পথ খোলা রাখছেন। তাই তথাকথিত অডিও প্রডিউসাররা এখন শিল্পীদের সেইসব চুক্তিগুলোর সাথে সমবণ্টন করার কাজটিই করছেন মাত্র। কারণ মূলত এখন অডিও সিডি ছাপার কাজটি একেবারেই গৌণ। এছাড়া ঢাকা শহরে বড় বড় দুটি অডিও সিডি তৈরির কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে বেশ আগে। অডিও দোকানগুলো হয়ে গেছে মোবাইল বা কসমেটিক শপ। আগে যেখানে ১ থেকে ২ লাখ কপি সিডি বিক্রি হলেও সেটাকে অ্যাভারেজ বলা হতো, এখন সেখানে সিডি বিক্রেতার ৫ হাজার কপি সিডি বিক্রি হলেও তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন।
 
কিন্তু এত কিছুর পরও অডিও নিয়ে যারা হতাশা প্রকাশ করছেন, তারা আসলে ভুল বা অজ্ঞতার জন্যই করছেন। কারণ ডিজিটালি এখন গান থেকে আয় যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
 
প্রযুক্তির কল্যাণ ও গতিতে এখন সিডি প্রথাই বিলীনের পথে। অনেকের বাড়িতেই এখন আর সিডি প্লেয়ার নেই। তবে থেমে নেই গান বিক্রির প্রক্রিয়া। সম্প্রতি কণ্ঠশিল্পী ইমরানের গাওয়া ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ গানটির রেভিনিউ উর্ধ্বমুখী হওয়ায় প্রকাশক সঙ্গীতা গানটির সিডিসহ সবকিছুর স্বত্ব কিনে নেয় ১০ লাখ টাকায়। এছাড়া শিল্পীদের আপডেট জানতে এসএমএম-এর মাধ্যমেও আয় হচ্ছে এখন রেকর্ড পরিমাণের। তাই নীরবে অনেকের সিডি নিয়মিত রিলিজ না হলেও শিল্পীরা এখন রেভিনিউ পাচ্ছেন আগের জেনারেশনের তুলনায় অনেক।
 
কিন্তু এই হিসেবে সবচেয়ে বেশি ধোকা ও অর্থপ্রাপ্তিতে ঠকছেন সিনিয়র শিল্পীরা। কারণ তারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে যেমন এখনকার গানের সাথে নেই, ঠিক তেমনি তাদের অগণিত জনপ্রিয় গানগুলো ইউটিউবে অন্য কেউ পোস্ট দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এখানেও সেই গানগুলোর সংরক্ষণ করে সঠিক শিল্পীদের হাতে সম্মানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি।
 
যেমন দিলরুবা খানের ‘পাগল মন’ গানটির অডিও স্বত্ব্ব শিল্পী ও গীতিকার আশরাফ উদাসের। গানটি অজস্র কণ্ঠে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্টে আয় করেছে। অথচ শিল্পী দিলরুবা খানের কাছে জানতে চাইলে হতাশা নিয়েই বললেন, ‘আমি কিছুই জানি না। আমি তো এই গান দিয়ে একটা টাকাও পাইনি।’
 
এমন উদাহরণ অনেক। শিল্পী আজম খানের অগণিত গান ডিজিটালি ডাউনলোড করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অন্য কেউ। শাহ আব্দুল করিম বা আব্দুর রহমান বয়াতীর গানগুলো এখনও অনেকটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
 
তাই অসমবণ্টনের এই গানের ইন্ডাষ্ট্রির প্রকৃত ডিস্ট্রিবিউটর না হলে অনেকেই ঠকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন সিডি বিক্রি, ওয়েলকাম টিউন ডাউনলোড, ডিজিটালি ডাউনলোড (বিকাশ বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অনলাইনে গান কেনা) ইউটিউব, টুইটি (এসএমএএস আপডেটের মাধ্যমে শিল্পীদের অর্থ উপার্জন)। এছাড়াও আগামীতে ফেসবুকও তাদের নিজস্ব উদ্যোগে শিল্পী সম্মানি দেবে বলে জানা যায়।
 
তবে হয়তো সময়ের সাথে সাথে আরও কিছু নতুন নতুন অঙ্ক তৈরি হবে উপার্জনের। কিন্তু একইভাবে সিনিয়র শিল্পীরা জানবেনও না, এদিকে দুই একটা হিট গানের আর্টিস্টও হয়তো টাকা গুণে শেষ করতে পারবেন না। সৈয়দ আব্দুল হাদী, খুরশীদ আলম, বশির আহমেদের মতো শিল্পীদের অগণিত হিট গানগুলো অনলাইনে অনবরত ডাউনলোড হলেও তারা এর বিনিময়ে একটি টাকাও পাননি। পরবর্তী জেনারেশনের শিল্পীরাও অনেকে ঠকছেন। এর দায় বা দায়িত্ব সেই গানগুলোর স্বত্তাধিকারী প্রকাশকরা হলেও তাদের প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে শঠতার জন্য শিল্পীরা হারাচ্ছে তাদের অনেক প্রাপ্তির জনপ্রিয় গানের সম্মানি।