বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান সরকার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রেখে গত একবছর যাবত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে যাচ্ছে। তার প্রতি এই প্রতিহিংসার প্রধান কারণ জনগণ জানে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বিএনপির নয়া পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী একথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, অধ্যাপক শাহিদা রফিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী তিনবার নয়, চারবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপর ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বিরোধী দলের দাবি এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি-শাসিত থেকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় উত্তরণের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের ঐতিহাসিক দ্বাদশ সংশোধনী বিল সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে খালেদা জিয়া ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়যুক্ত হওয়ার পর তৃতীয় বার এবং সর্বশেষ ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। কেবল তিনি চারবারের প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন তাই নয়, বিগত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে তিনি দেশের মোট ২৩টি আসন থেকে সর্বাধিক ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
তিনি আরো বলেন, সরকার জানে খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকলে তার মিডনাইট ভোটের নীলনকশা দুঃস্বপ্নে পরিণত হতো। তাই তাকে কারাগারে বন্দী করে প্রশাসনকে দিয়ে ২৯ ডিসেম্বর রাতে ভোট করেছে বর্তমান সরকার। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবারো আহ্বান জানাবো, আপনার মনের মতো নির্বাচন তো শেষ। এবার দেশনেত্রীকে মুক্তি দেন। তাঁর বয়স এবং গুরুতর অসুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাঁকে কারামুক্ত করুন। কারণ বন্দীশালার চাবি আপনার হাতেই।
ইত্তেফাক/এএম