যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে বাঁচতে পরিবারের সাথে নদীপাড়ি দিতে গিয়ে মারা যাওয়া শিশু আয়লান কুর্দি স্মরণে বালুর ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে ফিলিস্তিন। সোমবার গাজা উপত্যকার বিচে এই ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়লানকে তুরস্কের সাগর পাড়ে যেভাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল ভাস্কর্যটি সেই দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ভাস্কর্যটি কয়েক মিটার দীর্ঘ।
লাল টি-শার্ট ও নীল প্যান্ট পরিহিত আয়লানের মৃতদেহ গত সপ্তাহে বোদরুমের কাছের সৈকতে পাওয়া যায়। ছবিটি প্রকাশের পর সারা বিশ্বে এটি ব্যাপক সাড়া ফেলে।
IMG0
ফিলিস্তিনের যে জায়গায় ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে তার কিছুদূরে গত বছর ইসরাইলের হামলায় চার শিশু নিহত হয়েছিল। তারা তখন ফুটবল খেলছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আরওয়া আরবিজান বলেছেন, ভাস্কর্যটি দেখে আমি গভীর দুঃখ অনুভব করেছি ও আবেগপ্রবণ হয়েছি।
তিনি জানান, এই ভাস্কর্য গত বছর যুদ্ধে গাজা বিচে বকর পরিবারের নিহত শিশুদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
গত বছর ১৬ জুলাই দুইটি বিমান হামলায় চাচাতো ভাই আহেদ আতেফ বকর (১০) ও জাকারিয়া আহেদ বকর (১০),ইসমাইল মোহম্মদ রামেজ বকর (১১) ও ইসমাইল মোহম্মদ বকর (১১) নিহত হয়।
এদিকে মরক্কোতে বিচে আয়লানকে ভিন্নভাবে স্মরণ করা হয়েছে। আয়লানকে যে অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল সেভাবে লাল টি-শার্ট ও নীল জিন্স পরে মাটিতে শুয়ে স্মরণ করা হয়েছে। সোমবার র্যাবেট বিচে ৩০ জনের মতো মানুষ এই কার্যক্রমে অংশ নেয়। এসময় তারা ২০ মিনিট আয়লানের মতো মাটিতে উপুড় হয়ে থাকে।
আয়োজকদের মধ্যে একজন মরক্কোর অভিনেত্রী লতিফা আহরার। তিনি বলেছেন, একজন শিল্পী হিসেবে আমার দায়িত্ব প্রতিক্রিয়া দেখানো ও সহকর্মীদের সাথে এখানে আসা। কেননা, একটি ছোট অঙ্গভঙ্গি বড় অর্থ বহন করতে পারে।
সাংবাদিক রাচিড এল-বেলতি জানিয়েছেন, আমার এখানে এটি বলতে এসেছি যে, ভূমধ্যসাগরীয়দের উচিত আদান-প্রদান ও বিনিময়ের স্থান রাখা। যারা একনায়কতন্ত্র, গৃহযুদ্ধ ও সন্ত্রাসের শিকার তাদের বাধা হওয়া উচিত নয়। খবর: এএফপি।