ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় কমপক্ষে সাড়ে আট লাখ মানুষ রয়েছে। চলতি বছর এবং আগামী বছর এসব মানুষ ইউরোপে আশ্রয় পেতে মুখিয়ে আছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’ এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, অভিবাসী প্রত্যাশীদের এ বাড়তি চাপ সামাল দিতে হলে ইউরোপের সব দেশকে সমন্বিতভাবে শরণার্থী নীতিমালা নিতে হবে।
ইউএনএইচসিআর বলেছে, বেশিরভাগ শরণার্থীই হবে সিরীয়। বছরের পর বছর ধরে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের কারণে বাধ্য হয়েই দেশ ছাড়ছে সিরিয়ার নাগরিকরা।
এ বছর অন্তত চার লাখ নতুন শরণার্থী অন্তর্জাতিক আশ্রয়লাভের উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ভিড়বে। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা সাড়ে চার লাখের বেশি হয়ে যেতে পারে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র উইলিয়াম স্পিনলার বলেন, এ বছর যে পরিমাণ আসবে বলে অনুমান করা হয়েছে তা প্রায় পরিপূর্ণ। এরই মধ্যে তিন লাখ ৬৬ হাজার মানুষ সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে বা পথে রয়েছে। এই সংখ্যা আসলে কত হবে সেটা নির্ভর করছে কবে নাগাদ শীত পড়তে শুরু করবে এবং সমুদ্র পাড়ি দেয়া আরো বিপজ্জনক হয়ে যাবে।
সিরিয়ার শরণার্থীদের আশ্রয় প্রার্থনার নিময় কানুন জার্মানি শিথিল করে দেয়ায় এ প্রবণতা আরো বাড়বে।
সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিতে গিয়ে ইউএনএইচসিআর’র প্রধান অ্যান্টোনিও গুতেরেস বলেন, শরণার্থীদের ইউরোপে প্রবেশের বৈধ পথের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
জার্মানি শরণার্থীদের এই বিশাল চাপ সামলাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ভুক্ত অন্যান্য দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছে।
ওদিকে ইতালি, হাঙ্গেরি ও গ্রিসে পৌঁছানো এক লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে ইইউ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়ার বিষয়ে একটি পরিকল্পনা এ সপ্তাহে প্রকাশ করতে পারে ইইউ’র নির্বাহী কমিশন।