পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী নাছিমা বেগম এবং নিহতের ছোট ভাই হাবিলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করার দায়ে তাদেরকে আরো সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নাজিমুদ্দৌলা আসামি নাছিমা বেগম (২০) ও তার দেবর হাবিবুল হাওলাদারের উপস্থিতিতে (২২) এ রায় প্রদান করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের বেতকা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের বড় ছেলে কাবিল হাওলাদারের স্ত্রী নাছিমা বেগমের সঙ্গে দেবর হাবিল হাওলাদারের পরকীয়া প্রেম গড়ে ওঠে। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ১২ জুলাই রাতে কাবিল, কাবিলের স্ত্রী নাছিমা ও দেবর হাবিল একসঙ্গে ভাত খেয়ে ঘুমাতে যায়।
রাত তিনটার দিকে দেবর হাবিল ভাবীকে ঘুম থেকে জাগায়। পরে দেবর-ভাবী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কাবিলকে ঘুমন্ত অবস্থায় গলায় তোয়ালে পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় কাবিল চিৎকার করলে আসামিরা কাবিলের মাথা ও মুখমন্ডল লক্ষ্য করে ধারালো দেশীয় দা দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এ সময় তারা কাবিলের পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে লাশ পাশের খালে ফেলে দেয়। পুলিশ 0ঘটনার দুদিন পর ১৫ জুলাই জেলা সদর উপজেলার রাজারকাঠি গুচ্ছ গ্রামের খালের ব্রিজের নিচ থেকে কাবিলের লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় উপ পরিদর্শক (এসআই) জিয়ারত হোসেন বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন।
ঘটনার তদন্তে আসামিদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০০৮ সালে পুলিশ ওই দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসিট দাখিল করে।
রাষ্ট্রে পক্ষে মামলাটির শুনানি করেন আইনজীবী পিপি খান ও আসামিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আহসানুল কবির বাদল।