দেশে বিএনপির আন্দোলনে ব্যর্থতা এবং দল গোছানোর ধীর গতি চলছে। তবে প্রবাসে বেশ সক্রিয় দলের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যে দলের বেশ কয়েকজন পুরোভাগের নেতা অবস্থান করছেন। তারা প্রবাসী নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় কূটনৈতিক লবিং চালাচ্ছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিসহ সার্বিক পরিস্থিতি সেদেশের সরকারের সামনে তুলে ধরছেন তারা। দেশে আগাম নির্বাচনের জন্য চাপ দিতে নানা পর্যায়ে তদবির করছেন।
বিএনপির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে টানা তিন মাস অবরোধ-আন্দোলন কর্মসূচির পাশাপাশি কূটনৈতিক তত্পরতায় মনোযোগ দেয় বিএনপি। দলটি ‘ফরেন ডিপ্লোমেসি’ বাড়িয়ে দেয় নতুনভাবে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে নতুনভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে জোর তত্পরতা চালানো হচ্ছে। দলের হাইকমান্ড যাদেরকে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিচ্ছেন তাদের ওপর আস্থা কম পাচ্ছেন। সে সময় কূটনৈতিক তদবিরের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার দূত হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র যান বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক।
পরে সেখানে যান ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। সেই থেকে তারা সেখানে অবস্থান করে বিএনপির পক্ষে জাতিসংঘ এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টে লবিং করার চেষ্টা করছেন। বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওসমান ফারুক স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। তিনি বৈঠক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গেও। তিনি তাদেরকে বাংলাদেশে একটি আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির আবদার জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সমপ্রতি ড.ওসমান ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির রাজনীতি শুধু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের আর কোনো আস্থা নেই। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা গিয়াস আহমেদ জানান, তারা প্রতিনিয়ত কংগ্রেস এবং সিনেট সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে যেন দ্রুত একটি অবাধ নির্বাচন হয় সেজন্য লবিং করা হচ্ছে। আমরা আগাম নির্বাচনের দাবিতে জাতিসংঘ এবং ওয়াশিংটনে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সামনে বিক্ষোভ করছি মাঝে মাঝে।
এদিকে প্রবাসে বসে প্রতিদিনই সরকারের সমালোচনা করে ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে নানা পোস্ট। সভা-সেমিনারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখছেন প্রবাসে অবস্থানরত বিএনপি নেতারা। যুক্তরাজ্য বিএনপির একজন নেতা বলেন, আমরা প্রবাসে থেকেও দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখছি, যেটা বাংলাদেশে বসে বিএনপি করতে পারছে না।
সৌদি আরব বিএনপির ঘাঁটি বলে দাবি করলেন মক্কা মহানগর বিএনপির সভাপতি ফিরদৌস চৌধুরী মিঠু। তিনি বলেন, তারা অনেকগুলো ব্লগ এবং ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে সরকারের সমালোচনা এবং বিএনপির পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।