ভ্যাটের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটাকাও বেশি নেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি এ সময় বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় কোন লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়।"
শুক্রবার সকালে রাজধানীর রিপোটার্স ইউনিটিতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ এ মন্তব্য করেন। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, রাজস্ব বোর্ড থেকেই গতকাল (বৃহস্পতিবার) আবারো বলা হয়েছে যে, ভ্যাট দেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোনভাবেই তা শিক্ষার্থীদের উপরে বর্তায় না। তাই আপনারা বিদ্যমান টিউশিন ফি'র সঙ্গে একটা টাকাও অতিরিক্ত দেবেন না। আপনারা স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি তুলুন তারা যেন ভ্যাটের অজুহাতে একটা টাকাও বাড়তি আদায় না করে।
এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোন প্ররোচনাকারী যাতে শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে কোনভাবেই প্ররোচিত করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।"
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোন লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। এ ধরনের মানসিকতা ত্যাগ করুন বরং গরীব শিক্ষার্থীদের বিনে পয়সায় পড়াশুনা করার ব্যবস্থা করুন।
টাইমস্কেল এবং সিলেকশনগ্রেড নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, শিক্ষকরা জাতির আলোকবর্তিকা। তাই সবার কাছে অনুরোধ শিক্ষকদের ব্যাপারে কথা বলার সময় যেন আমরা সতর্ক হয়ে কথা বলি এবং কেউ যেন অবমাননাকর কোন মন্তব্য না করি।
খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান বাদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যসব সদস্য অস্থায়ী উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির সব নামই অযৌক্তিক। মানুষ গাছ লাগানোর পরে ফল খায় আর বিএনপি গাছ লাগানোর পূর্বেই ফল খেয়েছে। তারা প্রথমে ক্ষমতায় এসেছে পরে দল গঠন করেছে।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত আইআইআরের রিপোর্টে সরকারের জনপ্রিয়তা দেখে বিএনপি নেতৃবৃন্দ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, তারা অবচেতন অবস্থায় আছে। যেমন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এখন নির্বাচন হলে নাকি আওয়ামীলীগ বিরোধি দলেও থাকবে না। আসলে তিনি বিএনপির করুণ দশার যাতনা থেকেই এ কথা বলেছেন।
সংগঠনের উপদেষ্টা হাসিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বলরাম পোদ্দার, অরুণ সরকার রানা, ফজলুল হক প্রমুখ।