শরণার্থী সংকট নিয়ে পশ্চিম ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জার্মানিসহ পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো শরণার্থীদের স্বাগত জানালেও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো ইউরোপিয়ান কমিশনের এক লাখ ৬০ হাজার 'শরণার্থী ভাগাভাগি'র প্রস্তাব না মানার কথা জানিয়েছে।
বলকান দেশগুলো হয়ে হাঙ্গেরিতে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসীর ঢল নামার প্রেক্ষাপটে এ বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়া সীমান্ত পারাপারের ট্রেন সার্ভিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে হাঙ্গেরি।
তবে জার্মানি সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নতুন আগত ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী ভাগ করে নেয়ার পরিকল্পনা 'সমুদ্রে এক বিন্দু পানির মতো'। শরণার্থীদের চাপে পড়া দেশগুলোসহ পূর্বাঞ্চলের দেশগুলো ইতিমধ্যে ওই পরিকল্পনার বিরোধিতা শুরু করেছে। ওইসব দেশ বলছে, তারা শরণার্থী নেয়ার কোটা মানবে না।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টেইনমেয়ার শুক্রবার প্রাগে অনুষ্ঠেয় এক বৈঠকে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর মন জয়ের চেষ্টা করবেন। গ্রিসের লেসবোস দ্বীপে শুধুমাত্র গত সোমবারই প্রায় ২২ হাজার শরণার্থী এসে পৌঁছেছে। এদের অনেকেই সিরিয়ার নাগরিক। তারা তুরস্ক থেকে গ্রিস এসেছে।
অস্ট্রিয়ার ট্রেন পরিচালক সংস্থা বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে হাঙ্গেরির সঙ্গে ট্রেন সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে। শরণার্থীদের স্টেশনে না আনতে বিভিন্ন বাস কোম্পানি ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে তারা।
এদিকে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো বাধ্যতামূলকভাবে শরণার্থী নেয়ার পরিকল্পনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্লায়াস লোহানিস বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া বাধ্যতামূলক কোটা নিয়ে আলোচনা করা যথোপযুক্ত নয়। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোও একই সুরে কথা বলেছেন। সূত্র: এএফপি