গত চল্লিশ বছরে হজে গিয়ে দুর্ঘটনা ও রোগে ভুগে মারা গেছেন তিন হাজারের মতো মানুষ। সর্বশেষ শুক্রবার ক্রেইন ছিড়ে পড়ে মারা গেছেন ১০৭ জন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মসজিদ আল-হারামে ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত দুই শতাধিক, যাদের মধ্যে রয়েছেন ৪০ বাংলাদেশি রয়েছে।
প্রতিবছর প্রায় এক লাখ লোক বাংলাদেশ থেকে মক্কায় হজ করতে যায়। আর সারা বিশ্ব থেকে হজে যান ৩০-৪০ লাখ লোক।
মক্কায় হজের সময় সর্বশেষ দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে। সেসময় ১৩ আফগান হাজির সঙ্গে অন্তত আরও জডনখানেক হাজি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
২০০৬ সালে মক্কার কাবা শরিফের অদূরে বহুতল আল-গাজা হোটেল ভেঙে পড়ে নিহত হন ৭৬ জন এবং আহত হন আরও ৬৪ জন।
একই বছর মিনায় শয়তানকে পাথর ছুঁড়ে মারতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান আরও ৩৪৫ জন।
২০০৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আল-জামারাতে শয়তানকে পাথর ছুড়ে মারার সময় পদদলিত হয়ে মারা যান ২৪৪ হাজি।
২০০১ সালের ৫ মার্চ ৩৫ জন হাজি মারা যান ওই আল-জামারাতে একই ধরনের ঘটনায়।
১৯৯৮ সালের ৯ এপ্রিল ১৮০ জন মারা যান হুড়োহুড়িতে হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে। ওই পদদলিত হওয়ার ঘটনাটিও ঘটে আল-জামারাতে, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময়।
১৯৯৭ সালের ১৫ এপ্রিল মিনায় তাবুতে আগুন লেগে পুড়ে মারা যান ৩৪০ জন। এ ঘটনায় আহত হন আরও দেড় হাজার।
১৯৯৪ সালের ২৩ মে ২৭০ জন মারা যান আল-জামারাতে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ইন্দোনেশীয়।
এর আগে ১৯৯০ সালের ২ জুলাই মক্কায় মারা যান ১৪শ ২৬ জন হাজি। তাদের বেশিরভাগই ছিলেন মালয়েশীয়, ইন্দোনেশীয় ও পাকিস্তানি। সুড়ঙ্গ পথে পদপিষ্ট হয়ে এই বিপুল মানুষের মৃত্যু হয়।
১৯৮৯ সালের ৯ জুলাই মক্কায় দুইটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হন এক হাজি এবং আহত হন আরও ১৬ জন।
১৯৮৭ সালের ৩১ জুলাই মক্কায় ৪০২ জন হাজি নিহত হন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ইরানি হাজি। এ ঘটনায় ৬৪৯ জন আহত হন। সৌদি নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শিয়াদের সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে তাবুতে আগুন লেগে গেলে নিহত হন ২০০ হাজি।