ক্লেয়ার বুকার
অনুবাদ :আন্দালিব রাশদী
[ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল পোয়েটস সামিট ২০১৯-এ ব্রিটেনের কবি ক্লেয়ার বুকার বাংলাদেশে এসেছেন। জন্ম গিল্ডফোর্ডে। কবি পরিচিতিই মুখ্য, জীবিকার প্রয়োজনে লন্ডনে মেডিকেল ভেষজ বিশেষজ্ঞ। প্রথম কাব্যগ্রন্থ :‘লেটার দেয়ার উইল বি পোস্টকার্ডস’। ক্লেয়ার বুকারের কবিতা ও কবিতাংশ অনূদিত হলো।]
তোমার তালুতে জলধারা
ভাবো দেখি, তোমার হাতের দিকে তাকিয়ে
তোমার তালুতে কী বিস্ময়কর এক জলধারা
প্রতিটি প্রান্তে বিস্ময়কর বৃক্ষসকল
তোমার বুড়ো আঙুল দয়ালু বৃক্ষ
বৃক্ষ তুমি ধরে রাখবে, অথবা
দয়া দিয়ে বেঁধে রাখবে তোমার সমাজ
তোমার তর্জনী জ্ঞানবৃজ্ঞ হয়ে উঠেছে
কেবল সরল ভাবনা আনন্দ জোগায়
জটিল বিমূর্ত দর্শন তা পারে না
মধ্যমায় দাঁড়িয়ে আছে বৃক্ষ, দীর্ঘ
স্বচ্ছ নীল হ্রদে সত্যের প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে
সবার জন্য সততার দিকে রাজপথ
চতুর্থ আঙুল, ভালোবাসা ও দান
আমাদের শেখায় শুধু নিতে হয়, আরো দিতে
ছোট গোলাপি আঙুল বিনয়ের অবতার
হ্রদের উত্তম জলধারা বয়ে যাক
তোমার বাহু বেয়ে হূদপিণ্ডে ও আত্মায়
তোমার ব্যক্তিক ও আত্মিক বড় হবার সহায়
আমার সব বন্ধুর কাছে এই আবেদন
মুষ্টিবদ্ধ করো না, ফিরিয়ে নিয়ো না কব্জি
পুরোটা সময় খোলা রেখো।
ডেডলাইন
যখন সবকিছু ব্যর্থ হয়
আমার ইপ্সিত অলৌকিকের তালিকা নিয়ে
সন্ত জুডের কাছে যাই :
বার্ষিক বিবরণী, ট্যাক্স ভাওচারের হিসাব সংক্ষেপ
কর কর্তনের সনদ
(স্মৃতি থেকে) দুর্ভাগ্যজনক সংযোজনের সাথে
ডুপ্লিকেট বিবরণ সাধারণত জারি হবে না
সবুজ ফোল্ডারে ঘরের ভেতর কোথাও
গা ঢাকা দিয়ে আছে
(খুঁজে বের করা কত কঠিন কাজ?)
হাঁটু গেড়ে আলমারির নিচের তাকে
আমি হাতরাই বাক্স, টেনিস র্যাকেট পুরনো কাগজ,
আমার মায়ের শেষ ওয়াকিং স্টিক
এমনকি তার মোমমাখানো শপিং ব্যাগ খুঁজি উল্টাই
ঘুঘু পক্ষির মতো একটি রুমাল
টুপ করে আমার হাতে পড়ে
রুমালে আমার মায়ের গন্ধ।
যা বলা যায় না
তোমার চোখ না পেলে আমি দেখতে ব্যর্থ হবো
কালো পাখির লেজের হীরকজ্যোতি
বহমান আকাশের বার্নিশ করা আলোতে
আমাদের গনগনে উজ্জ্বল আলোর গাদা।
যদিও প্রতিটি ফোঁটা ধরে রাখতে চাই
আমাদের পাত্রটি ফুটো, থাকতে পারে না।
আমার ব্রাইটন জানালা থেকে
আমার ছোট্ট একটি দ্বীপ আছে
দ্বীপটি নাজুক, সরু সীমান্ত-রেখা
দিগন্তের আড়ালে লুকিয়ে রাখে
ফ্রান্স শুয়ে আছে পৌরাণিক
আকাশে চালু নীলের নিচে।
একটি সরল বিশ্বাস
একদিন লোভের সব ধোঁয়া বিলীন হয়ে যাবে
বিলীন হবে উদ্বেগ, ক্রোধ, সহিংসতা ও ভয়
আর ঠিক সে সময়, এখান থেকে খুব দূরে নয়
আমরা সবাই একটি স্বচ্ছ দৃষ্টিতে দেখতে পাব
আমরা সত্যিই যথার্থ স্বচ্ছতায় দেখতে পাব
সুখ ও ভালোবাসার অনুভূতি পাচ্ছি
শান্তি, প্রেম ও দয়া-দাক্ষিণ্যের ভেতর দিয়ে
এটা সবাই বুঝবে, বৈশ্বিক অনুধাবন।