চকবাজার হয়ে গেল যম-শোকের আড়তদার

চকবাজার এখন শোক-বাজার।

যমদূতের আড়তদার—

দৈনন্দিন যাপিত জীবনের

প্রতিটি নিত্য জীবনের

মানুষের বসবাসের অধিকার

হারিয়ে, কাঠ-কয়লা-পাথরের

নিশ্চল শ্মশানের ও কবরের ঘরবাড়ি চকবাজার।

আগুনের লেলিহান শিখা

শত শত মানুষের আর্তচিত্কার

আর অস্থির আহাজারির চকবাজার।

 

বাতাসের শৃঙ্খল ভেঙে আগুন ছুটে এল।

কেন তা হলো, কী করে তা হলো,

অবশেষে তাও বোঝা গেল।

সমাধান খুঁজতে গিয়ে

ফায়ার ব্রিগ্রেড গাড়ি হিমশিম খেলো।

আগুনের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার

পথ নেই, গাড়ির মানুষের, মানুষের গাড়ির।

জনগণ থমকে গেল; শুনল পোড়া মানুষের কান্না

আমরা শিক্ষা নিই না।

নিমতলির ঘটনা থেকেও শিক্ষা নিইনি।

আগামীর কোনো ঘটনাও কি

      এদিনের শিক্ষা হয়ে থাকবে?

একুশে ফেব্রুয়ারির অফুরন্ত কান্নার সাথে।

এখন তো ১৯৫২ সাল নয়—এখন ২০১৯ সাল।

 

আগুন জ্বালায় পোড়ায়—

      লাশ করে দেয়, চিতাভস্ম করে দেয়।

তবুও আগুনের আর এক নাম জীবনের উত্তাপ।

এ উত্তাপ জন্ম দেয় রক্তের স্ফুরণের।

উত্তাপ না থাকলে জীবন বাঁচে না।

তাই বলে কি আগুনের উপাসক হতে হবে!

না—কিছুতেই না।

আমাদের সচেতনতা দিয়ে

     জল-আগুনের নিঃশ্বাসে রইবো বেঁচে।

অক্সিজেন-হাইড্রোজেনের

বাতাস ও জলপ্রবাহ নিয়ে রইবো বেঁচে।

তবু আর কোনোদিনে নিমতলি-চকবাজারের মতো

উপমা উেপ্রক্ষা ও অবিশ্বাস্য উদাহরণ

আসতে দেবো না, আনতে দেবো না, ঘটতে দেবো না।