চা শ্রমিকদের ২ ঘন্টার কর্মবিরতি

 
 
নির্বাচিত চা শ্রমিক ইউনিয়নের এক বছর অতিবাহিত হলেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। এরই মধ্যে চা শিল্প শ্রমিকদের তৃতীয় দফা মজুরির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে মজুরি বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে সোমবার দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন দেশের চা শ্রমিকরা। সোমবার সকাল নয়টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শ্রমিকরা কারখানা ও অফিসের সামনে অবস্থান গ্রহণ ও সভা সমাবেশ করেছেন।
 
শ্রমিকরা জানান, তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। দুই বছর অন্তর মজুরি বৃদ্ধির কথা থাকলেও ২০০৯ সালের পর আর কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এককভাবেই মালিকপক্ষ কয়েক দফায় সর্বোচ্চ মজুরি ৬৯ টাকা নির্ধারণ করেন। এদিকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর নির্বাচিত শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা প্রথমে নিয়মিত মাসিক চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও মজুরি বৃদ্ধি কিংবা সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি বিষয়ে সক্রিয় কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। সম্প্রতি চা শ্রমিক সংঘের পক্ষ থেকে বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা শ্রম আইনের ১০৩ এর (গ) ধারা মতে বকেয়াসহ সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি প্রদান নিয়ে আবেদন জানালে সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে সরগরম হয়ে উঠে।
 
চা শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী বলেন, বর্তমান দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে ৫ সদস্যের একটি চা শ্রমিক পরিবারের দৈনিক ৪০০ টাকা হিসাবে মজুরি বাস্তবায়ন, বকেয়াসহ সাপ্তাহিক ছুটির দিনের মজুরি পরিশোধসহ ১২ দফা দাবি জানিয়ে কিছুদিন পূর্বে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করা হলেও শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমতাবস্থায় বেঁচে থাকার তাগিদেই চা শ্রমিকদের আন্দোলন সংগ্রাম এমনকি কর্মবিরতির মতো কঠিন কর্মসূচীর প্রস্তুতিও চলছে।
 

এদিকে সোমবার কর্মবিরতি পালনকালে শমশের নগর চা বাগান নাচ ঘরে শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মনু ধলাই ভ্যালি কমিটির সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা, পঞ্চায়েত সভাপতি নিপেন্দ্র বাউরী, সম্পাদক শ্রীকান্ত কানু। একই সময়ে আলীনগর, কুরমা, পাত্রখোলা, বাঘাছড়া, চাম্পারায়, মাধবপুর, পদ্মছড়া, দেওড়াছড়া, দেউন্দিভাগ কোম্পানির মির্তিঙ্গা, ডানকান ব্রাদার্সের কানিহাটি, চাতলাপুর ডেবলছড়াসহ বিভিন্ন চা বাগানের সাধারণ চা শ্রমিকরা সোমবার দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি ও সমাবেশ করেন।