নরসিংদীতে রিয়া আক্তার (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করেছে প্রেমিক এবং পলাশে নাসরিন আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রিয়া আক্তার জেলা সদরের ভেলানগর মহল্লার রিয়াজুল খন্দকারের মেয়ে।
রবিবার গভীর রাতে সদর উপজেলার ভেলানগরে ও পলাশ উপজেলার টেঙ্গরপাড়া গ্রামে এ পৃথক ঘটনা ঘটে।
নিহতের মা ও স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, গত দুই বছর ধরে রিয়া আক্তারের বাসায় ভাড়া থেকে লেখাপড়া করত নরসিংদী ল কলেজের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন। এরই মধ্যে একাধিকবার রিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় আলমগীর। রিয়া আক্তার প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় বিয়েতে রাজি ছিল না তার পরিবার। লেখাপড়া শেষে রিয়া ও আলমগীরের মধ্যে বিবাহ দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করে রিয়ার পরিবার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানায়, এরই মধ্যে তাদের মধ্যে মন দেয়া নেয়া হয়। রবিবার রাতের কোন এক সময় রিয়ার ঘরে প্রবেশ করে প্রেমিক আলমগীর। রাতভর ঘরে থেকে তাকে ধর্ষণ ও পরে গলা টিপে হত্যার পর রিয়ার মায়ের সামনে দিয়েই পালিয়ে যায় আলমগীর। দ্রুত আলমগীরকে চলে যেতে দেখে রিয়ার মায়ের সন্দেহ হয়। পরে ঘরে গিয়ে মেয়েকে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রিয়ার গলায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানায় ।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আবুল কাশেম জানান, রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আলমগীরকে গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে। আলমগীরর বাড়ি মনোহরদী উপজেলায়।
অন্যদিকে পলাশে নিহত নাসরিন আক্তার স্বজনরা জানায়, রবিবার রাতে খাবার শেষে প্রতিদিনের মত নিজ ঘরে একাই ঘুমিয়ে পড়েন নাসরিন আক্তার। সোমবার সকালে পাশের ঘরে থাকা নিহতের ভাই আল-আমিন ঘুম থেকে জেগে নাসরিনের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। এ সময় ঘরে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় নাসরিনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সে মাদরাসায় লেখাপড়া করত।
এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। হত্যার রহস্যও উদঘাটন করতে পারেনি।
পলাশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপ্লব কুমার দত্ত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।