বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের জন্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন টাইমসে প্রকাশিত একটি লেখায় তিনি এই কথা বলেন।
‘আনমাস্কিং টেররিস্টস ইন বাংলাদেশ ‘ শিরোনামের নিবন্ধে জয় বলেছেন, মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মোকাবিলা করছে। বাংলাদেশ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গর্বিত অংশীদার। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্রে রোল মডেল এবং সেক্যুলার দেশ হিসেবে সমধিক পরিচিত। এছাড়া সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও সাহসী দেশটি। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদের জন্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী দায়ী।
প্রধানমন্ত্রীর চেলে লিখেছেন, পুলিশ সমপ্রতি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার দোতলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ২০টি বিস্ফোরক, ২৫টির বেশি বাঁশের লাঠি এবং জামায়াতে ইসলামীর সাথে সম্পর্কিত উগ্র বইপুস্তক উদ্ধার করেছে। পুলিশ বলেছে, বোমাগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। এ ধরনের দেশীয় বোমা জামায়াতের সন্ত্রাসী হামলায় নিয়মিত ব্যবহূত হয়েছে।
জয় তার লেখায় বলেছেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের নিরাপরাধ সাধারণ মানুষ যারা মজুরির বিনিময়ে কাজ করছেন সেসব পোশাক শ্রমিকদের উপর হামলা চালানোর জন্যই এ বোমাগুলো তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, ঈদুল আযহার ছুটির সময় হামলা চালানো পরিকল্পনা ছিল তাদের ।
প্রধানমন্ত্রীর ছেলে লিখেছেন, সাধারণ মানুষের ওপর জামায়াতের হামলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এছাড়া ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধকালীন সময় থেকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সমপ্রদায়ের মানুষজনের উপর তারা হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা পাকিস্তানি সেনাদের সাথে মিলে ৩০ লাখ মানুষ হত্যা, দুই লাখ নারীর সম্ভ্রমহানি ও লাখ লাখ মানুষকে উদ্বাস্তু করেছিল।
জয় লিখেছেন, সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া এসব বোমা গত কয়েক বছরে জামায়াতের সহিংসতাকে মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশে চারজন সেক্যুলার ব্লগারকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়তেও ফলাও করে প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু যারা কাছ থেকে বিষয়গুলো লক্ষ্য করছেন, তাদের অনেকেই এসব খুনের ঘটনায় অবাক হননি, কারণ খুন হওয়া এই চারজন ব্লগারই একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াত নেতাদের ফাঁসির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। সাম্প্রাতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায়গুলোর প্রতিক্রিয়ায় দেশজুড়ে কয়েকশো বেশি বোমা হামলা করেছে জামায়াত ইসলামী। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্করা এসব হামলায় নিহত হয়েছেন।
সজীব ওয়াজেদ তার লেখায় বলেছেন, সম্প্রতি পাওয়া এসব বিস্ফোরকগুলোর সাথে জড়িত সন্দেহে জামায়াতের ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে দুজন সাবেক সংসদ সদস্য। স্থানীয় মিডিয়া জানাচ্ছে, এই দুইজনই এখন জামায়াতকে পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। যদি এসব সত্যি হয় তবে এটা প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে যারা বৈধ রাজনৈতিক দলের আড়ালে অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে এই ধর্মীয় উগ্রবাদীদের উত্থান বিপজ্জনক। কেননা, আল কায়েদায় ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার সাথে তাদের মিল রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ৫৫ মিনিটের এক ভাষণে আল কায়েদা নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি বাংলাদেশের মানুষকে দক্ষিণ এশিয়ায় ‘জিহাদের পতাকা’ ওড়ানোর আজ্তান জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের সরকার ক্রমাগতভাবে এসব সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।
জয় লিখেছেণ, দক্ষিণ এশিয়ায়কে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা জাতিগুলোর মধ্যে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় বাংলাদেশ বাতিঘর স্বরূপ।
সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র জামায়াত ইসলামীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন জয়।