হাঙ্গেরি সার্বিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পর শরণার্থীরা এখন অন্য পথে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিবাসী প্রত্যাশীদের প্রথম দলটি বুধবার বাসে করে ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের কাছে এসে পৌঁছেছে।
ত্রিশ-চল্লিশ জনের অভিবাসন-প্রত্যাশীদের একটি দল রাতভর যাত্রা শেষে সকালের দিকে সার্বিয়ার সীমান্তবর্তী সিদ শহরে পৌঁছেছে। মেসিডোনিয়ার সীমান্ত শহর প্রেসেভো থেকে বাসে করে তারা সিদে এসেছে। শহরটি মেসিডোনিয়া সীমান্ত থেকে ৫শ’ কিলোমিটার দূরে। অভিবাসন-প্রত্যাশীদের বেশিরভাগই সিরিয়া ও আফগানিস্তানের বাসিন্দা। এই দলে নারী, পুরুষ ও শিশুরা রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হলেন আমাদৌ। তিনি পশ্চিম আফ্রিকার মৌরিতানিয়া থেকে এসেছেন।
তিনি বলেন, আমরা শুনলাম, হাঙ্গেরি সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। তাই পুলিশ আমাদের এই পথে আসতে বলেছে। আমরা এখন কি করবো তা জানি না। আমরা নৌকায় উঠতে পারবো?
IMG0
তবে সীমান্ত পাড়ি দিতে নদী পার হতে হয় না এবং এখান থেকে সীমান্ত মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এই খবর শুনে তিনি খুশিই হন। তিনি বিস্মিতও হন এটা শুনে যে এই পথে ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে ঢোকার চেষ্টাকারী প্রথম দলটিই হচ্ছে তাদের।
চলতি সপ্তাহ নাগাদ বিপুল সংখ্যক অভিবাসন-প্রত্যাশী ও শরণার্থী গ্রিস থেকে যাত্রা করে মেসিডোনিয়া ও সার্বিয়া হয়ে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করে। তবে হাঙ্গেরি সম্প্রতি আর শরণার্থীদের ওই দেশে ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশটি সোমবার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার ক্ষতি করা ও অবৈধভাবে হাঙ্গেরিতে ঢোকার অভিযোগে ৩৬৭ জন অভিবাসন-প্রত্যাশীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
IMG1
হাঙ্গেরি তাদের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ায় সার্বিয়া সীমান্তে আটকা পড়েছে হাজারো শরণার্থী। কারণ শেনজেন চুক্তিভুক্ত দেশ হাঙ্গেরিই প্রধান পথ হয়ে উঠেছে ইউরোপমুখি শরণার্থীদের। তাদের প্রধান লক্ষ্য থাকে শেংগেন চুক্তিভুক্ত একটি দেশে ঢোকা। এ চুক্তিভুক্ত ইউরোপের ২৬ দেশের মানুষ ওই দেশগুলোতে অবাধে ভ্রমণ করতে পারে।
IMG2
হাঙ্গেরির রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবান সার্বিয়া সীমান্তের পর রোমানিয়ার সঙ্গে সীমান্তেও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে রোমানিয়া এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। বিবিসি