মন্ত্রিসভা কমিটি প্রত্যাখ্যান করলেন শিক্ষকরা

অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর এবার বেতন বৈষম্য দূর করতে কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে আহ্বায়ক করে এ ‘বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। বেতন কাঠামোতে বৈষম্যের বিষয়ে অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে কমিটি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা নিয়ে আপত্তিও বিবেচনা করা হবে।

 
তবে বেতন বৈষম্য সৃষ্টির জন্য অর্থমন্ত্রীকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটির কাছে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না বলে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে শঙ্কা প্রকাশ ও আপত্তি জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
 
গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জারিকৃত আদেশে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- শিল্প মন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রী, আইন মন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। কমিটিকে সহায়তা করবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বা সচিব, অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব, জনপ্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সচিব এবং অভিযোগ উত্থাপনকারী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব বা সচিব বা ভারপ্রাপ্ত সচিব। আর অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দিবে।
 
আদেশে বলা হয়, কমিটি জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনিষ্পন্ন অভিযোগগুলো পর্যালোচনা, বৈষম্যের বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং অন্যান্য বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রদান করবে।
 
সপ্তম বেতন কাঠামোতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকরা সচিবের সমান গ্রেড-১ স্কেলে বেতন পেতেন। জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা গ্রেড-২ এবং অধ্যাপকরা গ্রেড-৩-এ বেতন পেতেন। অষ্টম বেতন কাঠামোতে ‘সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপক’ পদটি বিলুপ্ত করে সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের সচিবদের সমান গ্রেড-১ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য নতুন একটি বিশেষ গ্রেড তৈরি করা হয়েছে। বেতন বৈষম্য দূর, মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া ও স্বতন্ত্র বেতন স্কেলসহ চার দফা দাবিতে দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাদের দাবি, সরকারের আমলারা নিজেদের জন্য বিশেষ গ্রেড তৈরি করলেও শিক্ষকদের সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপক পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে অধ্যাপকরা আমলাদের নিচের স্কেলে থাকছেন।
 
গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন জানায়, অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো পুনঃনির্ধারণ এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেলসহ ৪ দফা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দেশের ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করবেন শিক্ষকরা। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নিজ নিজ ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করবেন তারা। তবে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আজ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। 
 
এদিকে বেতন বৈষম্য দূরীকরণে মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠনের পরও আপত্তি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
 

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থমন্ত্রী আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি উদাসীন এবং অবিবেচক। শিক্ষকদের তিনি অবমূল্যায়ন ও ক্ষোভ পোষণ করেন। তার কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাব না। তাই তাকে আহ্বায়কের পদ থেকে বাদ দিয়ে ঐ কমিটি গঠন এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো গঠন করতে হবে। ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, আমাদের দাবি ছিল অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো পুনঃর্নিধারণ এবং একটি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল নির্ধারণসহ ৪ দফা বাস্তবায়ন; কিন্তু সরকার সে দাবি মেনে না নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে বেতন বৈষম্য দূর করা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। এ কমিটির ব্যাপারে আমাদের আপত্তি রয়েছে। যেহেতু অর্থমন্ত্রীর কাছে আগে আমরা সুবিচার পাইনি, আগামীতেও তা পাব না। তাছাড়া এ কমিটিতে বেশকিছু সরকারের আমলা রয়েছেন যারা অতীতে শিক্ষকদের নিয়ে বিষোদগার করেছেন। তবে এ কমিটিতে সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী রয়েছেন যারা শিক্ষাবান্ধব, এটা আমাদের আশার দিক।