বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করা ১৬ বাংলাদেশিকে ফেরত দিয়েছে মিয়ানমনার। বৃহস্পতিবার বিজিবি ও মিয়ানমার অভিবাসন বিভাগের মধ্যে মংডুতে পতাকা বৈঠক শেষে তাদের ফেরত দেয়া হয়।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে টেকনাফ উপজেলার ১৩ জন, উখিয়ার দুইজন ও চকরিয়ার একজন রয়েছেন।
২০ বছর সাজা ভোগ করে ফেরত আসা সাবরাং নয়া পাড়ার জাগির হোসেন বলেন, ১৯৯৫ সালের জুন মাসে নৌকা নিয়ে আমরা তিন জন নাফনদীতে মাছ শিকারে যায়। এসময় হঠাত্ করে নাসাকা বাহিনী একটি ট্রলারে করে এসে অস্ত্রমুখে জিম্মি করে আমাদের ধরে নিয়ে। এরপর আমাদের বিভিন্ন কারাগারে রাখা হয়। আরো অনেক বাংলাদেশি সে দেশে কারাগারে রয়েছে বলে জানান তিনি।
শাহপরীর দ্বীপের নুরুল আলম বলেন, ২০১২ সালে মানবপাচার চক্রে খপ্পরে পড়ে সাগর পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে ৯০ জন মালয়েশিয়ার নাগরিকসহ বিকল ট্রলারটি আটক করে মিয়ানমার নৌ-বাহিনী ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা। পরে মিয়ানমার প্রশাসন তাদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয়।
মংডু শহর ১নং পয়েন্ট অব এন্ট্রি এন্ড এক্সিট এলাকায় সকাল সাড়ে ১১টায় ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-পরিচালক আজাহারুল আলম নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার মংডুস্থ অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা ইউ মই মাইন অং -এর নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল দুপুর ১২ টার দিকে ফেরত নাগরিকসহ টেকনাফ সদর বিওপি চৌকির জেটি ঘাটে পৌঁছে।
পরে দুপুর সাড়ে ১২ টায় সদর বিওপির মিলনায়তনে ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) অধিনায়ক মেজর মো: আবদুল হান্নান খান সংবাদ সম্মেলনে করেন। সম্মেলনে বলেন, সরকারের প্রচেষ্টায় দু-দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের হাতে আটককৃতদের সাজা শেষ হওয়ায় ১৬ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান খোন্দকার বলেন, মিয়ানমার থেকে ফেরত আনা ১৬ বাংলাদেশিকে থানায় সোর্পদ করেছে বিজিবি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।