সাতক্ষীরায় ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু

সাতক্ষীরার একতা ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূ সুমনা খাতুন (২০) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে তার মৃত্যু হয়। নিহত সুমনা খাতুন বকচর গ্রামের আব্দুস সাত্তার মোল্লার মেয়ে। একই উপজেলার রেউই গ্রামের লিটন হোসেনের স্ত্রী। 
 
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর  অপারেশন থিয়েটারে থাকা দুই চিকিৎসক ডা. দেবদুলাল, ডা. সুদীপ্ত শেখর দেবনাথ, ক্লিনিক মালিক হরিপদ ও ভৈরব চন্দ্র সরকার পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকের গ্রেফতারের দাবিতে ওই রাতেই বিক্ষোভ করে। পুলিশ এ ঘটনায় রাতেই দুই ওয়ার্ড বয়সহ ৩ জনকে আটক করেছে।
 
নিহত সুমনার ভাই মো. হোসেন আলী জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গর্ভবতী অবস্থায় তাকে একতা ক্লিনিকে নেয়া হয়। এরপর মোটা অংকের টাকা নিয়ে একতা ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে তাকে সিজার করা হয়। এ সময় সিজার (অপারেশন) করেন ডা. দেবদুলাল। তাকে অজ্ঞান করেন ডা. সুদীপ্ত শেখর দেবনাথ। অপারেশন থিয়েটারেই ভুল চিকিৎসায় তার বোনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান। এ সময় তার বোনের একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়। 
 
এ ব্যাপারে চিকিৎসক দেবদুলাল জানান, রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে সুমনাকে দ্রুত খুলনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়। এরপর তাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পথে শহরের অদূরে  বিনেরপোতায় এলাকায় তার মৃত্যু হয়। 
 
পরে এ ঘটনায় সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওয়ার্ড বয় আশাশুনির কোদণ্ডা গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে আরাফাত হোসেন (২৭), তারাপদ মণ্ডলের ছেলে কৃষ্ণ মণ্ডল (৩১) ও আয়া শিরিনা খাতুনকে আটক করে। নিহত সুমনার সন্তানটি বর্তমানে সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে জানা গেছে।
 
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। সেখান থেকে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। 
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।