টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংঘর্ষকালে সেখানে উপস্থিত সকল পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শুক্রবার যেসব পুলিশ সদস্য গুলি ছুড়েছিলেন, তাদের প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান জানিয়েছেন। কালিহাতী উপজেলায় ছেলের সামনে মাকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়।
শনিবার পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। এই কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (ডিসিপ্লিন)মো. আলমগীর আলমকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আক্তারুজ্জামান এবং টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসলাম খান। সৃষ্ট ঘটনা, পুলিশের গুলিবর্ষণ এবং তিনজন মানুষ নিহত হওয়া সম্পর্কে কারণ অনুসন্ধান ও দায়-দায়িত্ব নিরূপণের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি নূরুজ্জামান বলেন, সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছি, গতকালের ঘটনার সময় যারা গুলি ছুড়ছে তাদের ক্লোজ করার জন্য।
নিরপেক্ষ তদন্ত করার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য স্থানীয় পুলিশকে পরামর্শ দেন।
নিহত শামীম (৩২), ফারুক (৩৫) ও শ্যামল দাসের (১৫) ময়নাতদন্ত শনিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হয়েছে। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী সাংবাদিকদের বলেন, তিনজনই বুলেটবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।