ঘটনার শুরু যেভাবে

কালিহাতীতে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে জেলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম রোমার স্ত্রী সম্প্রতি আল আমিন নামে এক যুবকের সঙ্গে চলে যায়।  সে রফিকুলকে তালাকও দেয়। পরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রফিকুল ঘাটাইলের পার্সি গ্রামে আল আমিনের বাড়িতে গিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেয়।

এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আল আমিন ও তার মা পরদিন অর্থাত্ ১৫ সেপ্টেম্বর রফিকুলের সাতুটিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে তারা পৌঁছলে রফিকুল ও তার ভগ্নিপতি হাফিজ উদ্দিন বাড়ির উঠানে উলঙ্গ করে আল আমিনকে মারধোরের পর তাকে ঘরে আটকে রাখে। এরপর আল আমিনের মাকেও বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে।

এক পর্যায়ে দুই জনকে ঘরে তালা দিয়ে রাখে। মা-ছেলের চিত্কার শুনে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় আল আমিনের মা থানায় একটি মামলাও করেন। পরে রফিকুল ইসলাম রোমা ও তার ভগ্নিপতি হাফিজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 
ওই দিনের ঘটনার পর গ্রামে ফিরে এসে এলাকার মানুষকে জানান আল আমিন ও তার মা। এরপরই গত শুক্রবার মা ও ছেলেকে নির্যাতনের প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন এলাকাবাসী। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। এতে তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এছাড়া আহত হন আরো অর্ধশত মানুষ।
 
হামিদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একজন ব্যবসায়ী বলেন, যারা মায়ের সম্মানে হাত দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে মিছিল বের করে। সেখানে পুলিশ হামলা করলো কেন? তাহলে পুলিশ কি জনগণের প্রতিপক্ষ?