নিউইয়র্ক পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে ১১ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টা ৫৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিশেষ ফ্লাইট বিএ-১৮১ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমাবন্দরের ৭ নম্বর টার্মিনালে অবতরণ  করে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। পরে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ম্যানহাটনের অভিজাত হোটেল ওয়ার্ল্ডরফ এস্টোরিয়া’য় নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে এই প্রথম নিউইয়র্কে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে প্রবাসীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।

 

IMG0


প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বিমানবন্দরে সমাবেত হন। এ সময় তারা বিমাবন্দরের পার্কিং এলাকায় জড়ো হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ জানান, বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনার এবারের সফর প্রবাসীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম আমাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন, এটা আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের।

 

IMG1
 
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা যখন প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানাচ্ছিলেন তখন পাশেই বিক্ষোভ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান জিল্লুর ও শরাফত হোসেন বাবু সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

তারা জানান, নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যাবেন সেখানেই বিক্ষোভ করবে বিএনপি।
 
এ বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনকে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে জাতিসংঘের পরিবেশ সম্পর্কিত সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়নে আইসিটি পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

 

IMG2

প্রধানমন্ত্রী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনারের কাছ থেকে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ অব দ্য আর্থ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন। তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিবের কাছ থেকে ‘আইটিইউ পুরস্কার’ গ্রহণ করবেন।
 
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮ সেপ্টেম্বর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অধিবেশরেন যোগ দেবেন। একই দিনে তিনি অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আয়োজিত সংবর্ধনা ও ভোজসভায় যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন ৩০ সেপ্টেম্বর। তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, সুশাসন, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও শেখ হাসিনা, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলা ভাষায় ভাষণ দেয়ার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে মাতৃভাষায় ভাষণ দেবেন।

সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দফতরে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন। পরের দিন প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং-এর আমন্ত্রণে ‘গ্লোবাল লিডারস মিটিং অন জেন্ডার ইক্যুয়েলিটি এন্ড ওমেনস এমপাওয়ারমেন্ট: এ কমিটমেন্ট টু এ্যাকশন’-এ যোগ দেবেন। একই দিন তিনি বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নবিষয়ক সংলাপে কো-চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরে ২০১৫ পরবর্তী বিশ্বের উন্নয়ন এজেন্ডা নিয়ে অধিবেশনের প্লেনারি সেশনে ভাষণ দেবেন। এতে তিনি টেকসই উন্নয়ন ও এ লক্ষ্যে সরকারের কর্মকাণ্ডে জাতীয় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের হিলটন মিডটাউন হোটেলে তার সম্মানে প্রবাসী বাংলাদেশি স¤প্রদায়ের দেয়া সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তিরক্ষা সম্পর্কিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ড, পাকিস্তান, রুয়ান্ডা, উরুগুয়ে ও ইউএনএসজি।

২৯ সেপ্টেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত আইএসআইএল ও সহিংস জঙ্গিবাদ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দেবেন। তিনি 'এমডিজি থেকে এসডিজিতে উত্তরণ: বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা' শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। এতে জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। একই দিন তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেবেন।

সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ২৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গার্লস লিড দ্য ওয়ে’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরামে ভাষণ দেবেন। একই দিন তিনি হোটেল ওয়ার্ল্ডরফ এস্টোরিয়ায় বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্টান্ডিং অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এছাড়া তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালাসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দেশে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে একদিন যাত্রাবিরতি করবেন এবং সেখানে ২ অক্টোবর তাকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। সেখান থেকে ৩ অক্টোবর দেশে ফিরবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমাম, অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, ডা. দীপু মনি এমপি, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক প্রমুখ।

এছাড়া এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদের নেতৃত্বে ১১৯ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন। তবে প্রতিনিধি দলের অধিকাংশ সদস্য বুধবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে নিউইয়র্ক পৌঁছান।