থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণের বোন প্রিন্সেস উবোলরাতানাকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনয়ন দিয়ে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বিলুপ্ত হল সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার অনুগত রাজনৈতিক দল। থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত গতকাল বৃহস্পতিবার ‘থাই রকসা চার্ট পার্টি’ নামের দলটি ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এখানেই শেষ নয়, পার্টির নির্বাহী বোর্ড সদস্যদের ১০ বছরের জন্য রাজনীতিতে নিষিদ্ধ ঘোষণাও করেছে একই আদালত।
২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন সিনাওয়াত্রা। আগামী ২৪ মার্চ থাইল্যান্ডে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মাসের শুরুর দিকে রাজকুমারী উবোলরাতানা ‘থাই রকসা চার্ট পার্টি’র একমাত্র প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নজির সৃষ্টি করেছিলেন। এরপরই উবোলরাতানার প্রধানমন্ত্রীত্বের লড়াইয়ে নামার এ চেষ্টাকে ‘অনুচিত’ এবং অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন থাই রাজা ভাজিরালংকর্ণ। রাজকুমারীকে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করার অভিযোগে দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহলে। কারণ, ঐতিহ্য অনুযায়ী রাজপরিবার রাজনীতির বাইরে থাকে। তাদের কাউকে নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। এরপর নির্বাচন কমিশন দলটিকে নিষিদ্ধ করার আবেদন করে আদালতে।
আরো পড়ুন : নারীর জয়যাত্রা সর্বত্রই
নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নিষিদ্ধ করে দেয়ায় বিরোধী দলটি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়ল। যেসব দল সামরিক জান্তা সমর্থনকারী দলগুলোকে হারানোর পরিকল্পনা করছিলো, তাদের পরিকল্পনা হোঁচট খেল। গতকাল রায় ঘোষণার আগে থেকে আদালত প্রাঙ্গণে ছিলো কঠোর নিরাপত্তা। অন্তত ১ হাজার নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোতায়েন ছিলেন। নিষিদ্ধ হবার পর ‘থাই রাকসা চার্ট’ দলের প্রধান প্রিচাপোল পংপানিচ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের সামনে আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তারা আদালতের রায় মেনে নিয়েছেন। কারণ তারা সবাই দেশের ভালো চান।
এদিকে, রায়ের পর দলটির সমর্থকদের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা জানিয়েছেন সমমনা অন্য বিরোধী দলগুলোকেই ভোট দেবেন আসন্ন নির্বাচনে।
ইত্তেফাক/ইউবি