অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দেশে ফেরা হাজিদের

 
এ বছর ছিলো হজের জন্য সবচাইতে দুর্ঘটনাপ্রবণ। দু-দুটি দুর্ঘটনার স্মৃতি নিয়ে হজ থেকে দেশে ফিরতে হয়েছে বিভিন্ন দেশ থেকে সৌদিতে হজ করাতে যাওয়া মুসলমানদের। দেশে ফিরে হাজিরা জানিয়েছেন তাদের ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার কথা। গত সোমবার হজ ফেরত যাত্রা শুরুর পর থেকে ফ্লাইটে দেরি নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে আসছিলেন হাজিরা। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে লাগেজ না পাওয়ার বিড়ম্বনা।
 
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ফেরত আসা কয়েকজন হাজি লাগেজ না পাওয়ার কথা জানান। বেলা সাড়ে ১২টার কিছু পরে শাহজালাল বিমানবন্দরে নামার পর পটুয়াখালীর নজরুল ইসলাম জানান, 'লাগেজ পাচ্ছি না। কখন পাব, তাও জানি না।' জেদ্দা থেকে ফ্লাইটে দেরির ভোগান্তির কথা জানিয়ে ঢাকায় এসে লাগেজ না পাওয়ার কথা বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের লতিফা বেগমও।
 
একই বিড়ম্বনার শিকার ঝিনাইদহের আমিনুল ইসলাম বলেন, '২৪ ঘণ্টা এয়ারপোর্টে বসেছিলাম। এখানে এসে দেখি লাগেজ নাই। এই দুর্ভোগ কোনো অংশেই ক্রেইন দুর্ঘটনা বা মিনার ঘটনার চেয়ে কম না।'
 
চাঁপাইনবাবগঞ্জের লতিফা বলেন, 'গতকাল ভোর থেকে আমরা জেদ্দা বিমানবন্দরে ছিলাম। ওখানে খুব গরম, এর মধ্যে এয়ারপোর্টের সামনে রাস্তায় আমাদের আমাদের বসে থাকতে হয়েছে। একে তো গরম, তারপর পানি নাই, বিশ্রামের জায়গা নাই। কখন প্লেন আসবে, তা ও জানি না।'
 
নোয়াখালীর বজলুর রশিদ বলেন, 'আমরা তো কোনোভাবে কাটিয়ে ‍দিয়েছি, সমস্যা হয়েছে মহিলাদের। রাস্তায় বসে থাকতে হয়েছে। অন্যান্য দেশের হাজিরা টার্মিনালে ঠিকই বিশ্রামের জায়গা পেয়েছে। আমরাই পাইনি।'
 
এদিকে ফ্লাইটে দেরির কারণ ব্যাখ্যা করে বুধবার বিমান একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। লাগেজ না পাওয়ার বিষয়ে বিমানের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাসনিম আক্তার জানান, আসলে মূল সমস্যা হচ্ছে জেদ্দা টার্মিনালে। এমনিতে প্রতিবছর জেদ্দা কর্তৃপক্ষ আমাদের যাত্রীদের চেকিংয়ে বেশি সময় নেয়। এ বছর ক্রেইন দুর্ঘটনা ও মিনা ট্র্যাজেডির পর চেকিংয়ের মাত্রা আরো বাড়ানো হয়েছে। লাগেজ লোডও হচ্ছে দেরিতে।'
 
বিষয়টি নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, পরের ফ্লাইটে লাগেজ চলে আসবে। বিডি নিউজ।