র্যাবের নির্যাতনেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন শম্পা। গতকাল সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।
শম্পা বলেন, তার স্বামীর হার্টের কোন রোগ ছিল না। তার স্বামী দোষ করলে তার জন্য আইন আছে, আদালত আছে। আদালত তার স্বামীকে শাস্তি দিবে। তার স্বামীকে যে অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। অফিসের লোকজনই তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭ টার দিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় জাতীয় হূদরোগ ইন্সটিটিউটে ওমর সিরাজের মৃত্যু হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ওমর সিরাজ র্যাবের কাছে দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ডে ছিলেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থ হলে র্যাব তাকে জাতীয় হূদরোগ ইন্সটিটিউটে ভর্তি করে।
এদিকে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ জানান, ওমর সিরাজের শরীরে উল্লেখযোগ্য আঘাতের তেমন কোনও চিহ্ন ছিলো না। তার হার্ট অত্যন্ত বড় ছিল। সাধারণত কেউ হূদরোগে আক্রান্ত মারা গেলে হার্ট বড় হয়ে যায়। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। হার্টের আলামত ঢামেকের হিষ্টপ্যাথলজি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সিরাজকে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে র্যাব। র্যাব-৪ এর অপারেশন অফিসার ও সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মুজাহিদ জানান, ওমর সিরাজ চিকিত্সাধীন অবস্থায় হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। জাতীয় হূদরোগ ইন্সটিটিউট হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে বলে চি?হ্নিত করেছে।
তিনি আরো বলেন, মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা ও জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা জানতে ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর তাকে আরো দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল।
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনকারী শেরেবাংলা থানার এসআই ওয়াজেদ আলী জানান, ওমর সিরাজের বাম হাতের কবজিতে ও ডান হাতের কনুইতেও পুরাতন ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া ডান কাঁধের পেছনে লম্বা কালো দাগ আছে।
১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজ (৩২) ও হাইকোর্ট মোড়ের সামনে থেকে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের স্টোরকিপার রেজাউল করিম (৩২) ও ঈশান ইমতিয়াজ হূদয় (২২) নামের তিনজনকে আটক করা হয়।