'রাজধানীর জন্য মাস্টার প্ল্যান অতীব জরুরি'

 
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিপুল জনসংখ্যার ঢাকা মহানগরীরর জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান অতীব জরুরি বলে মন্তব্য করলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার  মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, সরকার ২০১৬  থেকে ২০৩৫ পর্যন্ত ২০বছর মেয়াদি ঢাকা স্ট্রাকচার প্লাান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
 
দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধানে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের আয়তন কম কিন্তু জনসংখ্যা অত্যাধিক। এই কম আয়তনের মধ্যে অধিক জনসংখ্যার বাসস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করে আবাসন গড়ে তুলতে হবে, অন্যথায় ভবিষ্যতে দেশকে খাদ্য উৎপাদনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
 
তিনি সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। মন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষি জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পল্লী এলাকায় পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গ্রামীণ এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে কৃষিজমি রক্ষা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
 
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ'র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, ইউএনডিপি'র কান্ট্রি ডিরেক্টর পাওলিন টেমেসিস ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জি. এম জয়নাল আবেদীন ভূইয়া।স্মারক বক্তৃতা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কিউ এম মাহমুদ।
 
১৯৮৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪০তম অধিবেশনে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার ‘বিশ্ব বসতি দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত হয়। খন্দকার  মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৫৯ সালে সর্বপ্রথম ঢাকার মাস্টার প্লান প্রণয়ন করা হয়। সে সময় ধারণা করা হয়, ১৯৭৯ সালে ঢাকার জনসংখ্যা হবে ১৪ লাখ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালেই ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার এবং ১৯৮১ সালে এই জনসংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজারে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীর জনসংখ্যা এক কোটি ৫১ লাখে দাঁড়িয়েছে। ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্ট -২০১৪ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা হবে দুই কোটি ৭৩ লাখ। সে সময় জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকা হবে পৃথিবীর ৬ষ্ঠ বৃহত্তম মহানগরী।
 
তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় কর্মসংস্থান, উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য আধুনিক সুবিধা ঢাকায় বেশি থাকায় জনগণের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতাও বেশি। দেশের অন্যন্য শহরের চিত্রও প্রায় একই। তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠির একটু স্বস্তি প্রদানের জন্য সার্বজনিক স্থান এবং সেই স্থান ব্যবহারের অধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।