ভাবমূর্তি রক্ষায় মরিয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ড তদন্তে মাঠে নেমেছে ৬টি সংস্থা। হত্যা রহস্য উন্মোচনকে তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। কেননা এটা তাদের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তদন্তের স্বার্থে সবকিছু বলা যাচ্ছে না।

 
শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি নাগরিক খুনের পর একটি মহল ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জড়িত থাকার ধুয়া তুলে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। এ নিয়ে একটি বিদেশি মহল স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। দেশীয় কিছু ষড়যন্ত্রকারীও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
 
টাইমস অব ইন্ডিয়া গতকাল দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে এই ঘটনায় বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ওই প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে।
 
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন, শান্তিরক্ষী মিশনে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জাতিসংঘসহ পুরো বিশ্ব এটার প্রশংসা করছেন। এখন বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ড রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চলছে। যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণও তারা সংগ্রহ করেছেন।
 
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে মোটিভ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে রাজধানীর বাড্ডায় নিজ বাসায় হত্যা করা হয় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যানকে। তিনি ছিলেন পীর বংশের ছেলে। ঈশ্বরদীতে ধর্মযাজককে হত্যা চেষ্টা করা হয়। এসব সুপরিকল্পিত ঘটনা; এতে সন্দেহের অবকাশ নেই।                
 
ইতোমধ্যে খোঁজ নিয়ে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন যে ওয়েবসাইটে বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডে আইএস জড়িত বলা হয়েছে সেটি ইসরাইলপন্থি ওয়েবসাইট। এটার দায়িত্বে থাকা বিতর্কিত সেই নারী প্রপাগান্ডা ছড়াতে এসব ভুয়া তথ্য দিয়ে থাকেন। এছাড়া ভারতীয় সরকারকে ৫১১ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয় বাংলাদেশ থেকে। ষড়যন্ত্রকারীরা ওই প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলে উল্লেখ করে। একজন সংখ্যালঘু সাংবাদিককে দিয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এসবও বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
 
এদিকে আইএস বলছে, বাংলাদেশ মুসলিম দেশ। এই দেশের প্রতি কোন আইএসের কোন ক্ষোভ নেই। টার্গেটে বাংলাদেশ নেই। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডে আইএস জড়িত বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে সংগঠন থেকে বলা হয়। 
 

বিদেশি নাগরিকদের উপর জঙ্গি হামলার আগাম তথ্যটি একজন কূটনীতিক সরকারকে অবহিত করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, একটি দূতাবাস থেকে ঈদের আগে জানানো হয় একটি পাঁচ তারকা হোটেল এবং এমপি, মন্ত্রীসহ ভিআইপিদের ওপর জঙ্গি হামলা হতে পারে। তবে বিদেশি নাগরিকদের হামলার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এই তথ্যটি ওই দূতাবাস থেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়।