দরিদ্রের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনলো বিশ্বব্যাংক

মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে দরিদ্রের হার নির্ধারণে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে বিশ্বব্যাংক। নতুন হিসাব অনুযায়ী, যে ব্যক্তির দৈনিক আয় ১ দশমিক ৯০ ডলারের কম, তিনিই অতিদরিদ্র হিসেবে বিবেচিত হবেন। ২০০৫ সাল থেকে সোয়া ডলারের (একশ টাকার সমান) দৈনিক আয়ের মানুষকে অতিদরিদ্র ধরা হতো। এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, নতুন মাথাপিছু আয়ের হিসাবে চলতি বছর শেষে দক্ষিণ এশিয়ায় অতিদরিদ্রের সংখ্যা কমে আসবে সাড়ে ১৩ শতাংশে।

 
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০১৪ সাল শেষে দক্ষিণ এশিয়ার মোট জনসংখ্যা ছিল ১৭২ কোটি। বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য নিরসনে ২০১৩ সালে দুটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করে বিশ্বব্যাংক। একটি হলো ২০৩০ সালের মধ্যে অতি দরিদ্র্র মানুষের সংখ্যা শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। দ্বিতীয়টি হলো নিম্ন আয়ের ৪০ ভাগ মানুষের অবস্থার উন্নতি করা।  বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৯০ কোটি ২০ লাখ ছিলো যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭০ কোটিতে নেমে আসবে। যা বিশ্বজনসংখ্যার মাত্র ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক আশাপ্রকাশ করছে প্রথম বারের মতো বিশ্বে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসবে।
 

বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হিসাবের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশকে এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। বাংলাদেশের মানুষের আয় পরিস্থিতি, ভোক্তা পর্যায়ের তথ্য নিয়ে জটিলতা রয়েছে যা বিশ্বব্যাংকের মানদন্ডের হিসেবে গরমিল হচ্ছে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিমাপের ক্ষেত্রে এখনো মাথাপিছু ১ দশমিক ২৫ ডলারের দৈনিক আয়কে বিবেচনায় ধরা হচ্ছে। আগামি বছরের মধ্যে তথ্যের এই সমস্যা কাটিয়ে নতুন হিসেবে বাংলাদেশকে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।