'আইএস নয়, জামায়াত জড়িত থাকতে পারে'


বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তারা মনে করছেন, আইএস নয়, জামায়াত ইসলামিই এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে।

মঙ্গলবার ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ভারতী জৈন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা মনে করে, বাংলাদেশে জামায়াত ইসলামির লোকজন তাদের যুদ্ধাপরাধী নেতাদের বিচার ঠেকাতে এবং পশ্চিমা বিশ্বের মনযোগ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।

এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, বাংলদেশে জামায়াতে ইসলামীর কয়েক শীর্ষ নেতার যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আছে। দলটির আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলা আপিল বিভাগে শুনানি চলছে। জামায়াত এমনভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে এবং প্রচার করছে যেন আইএসই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, জামায়াত পশ্চিমা বিশ্বকে দেখাতে চায়, শেখ হাসিনা সরকার দেশে নিরাপত্তা বজায় রাখতে সমর্থ নয়।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মতে, আইএসের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের হত্যাকাণ্ডের মিল নেই। কারণ আইএস নিষ্ঠুরভাবে অর্থাৎ শিরশ্ছেদ করে হত্যা করে এবং তার ভিডিও করে। কিন্তু বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে গুলি করে।

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করলেও আইএসের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের এসব ঘটনা নজরে রাখছেন এমন একজন কর্মকর্তা জানান, যারা আটক হয়েছেন তার মূল পরিকল্পনাকারী নন, কিন্তু পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। যদিও এখন পর্যন্ত উদঘাটন করা যায়নি। আর এসব হত্যাকাণ্ডে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যা আইএসের জড়িত থাকার বিষয়ের দাবিকে জোরালো করে।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র যে কারণটি পাওয়া যায় তাহলো জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা। দলটির নেতা-কর্মীরা তাদের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধ মামলার রায়ে আহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ (প্রকৃত পক্ষে হবে কাদের মোল্লা) এবং মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের হত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটিয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায় দলটি।

আন্তর্জাতিক গ্রহনযোগ্যতা পেতে গত কয়েক বছর জামায়াত তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে ইতালির নাগরিক তাভেল্লা চেজারকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। এরপর ৩ অক্টোবর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুটি হত্যাকাণ্ডই ঘটানো হয় মোটরসাইকেলে এসে।

দুটি হত্যাকাণ্ডের পর আইএসের দায় সংক্রান্ত বিবৃতি এসআইটিই ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ নামের একটি ওয়েবসাইট প্রকাশ করে। অনলাইনে বিশ্বের জিহাদি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এই ওয়েবসাইটটি।