সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান-হামলা অব্যাহত

 
সিরিয়ার হামা ও ইদলিব প্রদেশে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ দিকে, রুশ যু্দ্ধবিমানের তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন নিয়ে রাশিয়াকে সতর্ক করেছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। এর আগে  আকাশসীমা লঙ্ঘন নিয়ে রাশিয়ার দেয়া ব্যাখ্যায় প্রশ্ন তুলেছে ন্যাটো। খবর আলজাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্সের।
 
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সিরিয়ার হামা ও ইদলিব প্রদেশে বুধবার নতুন করে বিমান হামলা চালায় রাশিয়া। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটির বরাত দিয়ে বুধবার আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
 
ইউটিউবে হামলার সময়কার একটি ভিডিও আপলোড করে সংগঠনটি জানিয়েছে, এতে কমপক্ষে চারজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার সিরিয়ার আলেপ্পো নগরের পালমিরায় আইএসের দখলকৃত এলাকায় হামলা চালায় রাশিয়ার বিমান। ওই হামলায় আইএসের ২০টি যানবাহন এবং তিনটি অস্ত্রঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে বলে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়।
 
এ দিকে, রুশ যুদ্ধবিমানের তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় মস্কোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগান।
 
উল্লেখ্য, সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর সময় গত তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করে রুশ বিমান। এ ঘটনায় রাশিয়ার সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, তাদের এ ধরনের আচরণে তিনি ধৈয হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি মস্কোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘তুরস্কের বিরুদ্ধে যে কোনো হামলা ন্যাটোর বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে ধরে নেয়া হবে।’ আকাশ সীমা লঙ্ঘনের জন্য তুরস্ক সরকার এরই মধ্যে দুইবার আঙ্কারায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিল।
 
এর আগে রুশ যু্দ্ধবিমানের তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা নিয়ে রাশিয়ার ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সামরিক জোট ন্যাটো। রুশ যুদ্ধবিমানের এই আকাশসীমা লঙ্ঘনকে ‌‌'নিছক দুর্ঘটনা  ব েমনে করছে না ন্যাটো। ন্যাটো মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘রাশিয়ার যুদ্ধবিমান দীর্ঘসময় ধরে তুরস্কের আকাশ সীমায় ছিল এবং এর যুক্তিযুক্ত কোনো ব্যাখ্যা তারা এখনো দেয়নি।’
 
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, খারাপ আবহাওয়া এবং বিমান চালনার ভুলের কারণে তাদের বিমান কয়েক সেকেন্ডের জন্য তুরস্কের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল। দ্বিতীয়বার আকাশ সীমা লঙ্ঘনের দাবির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে রাশিয়া।  স্টলটেনবার্গ রাশিয়ার এই কান্ডকে ‌‘অপ্রত্যাশিত’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, ন্যাটো বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তিনি বলেন, ন্যাটো বাহিনী ও রাশিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেটির ব্যবহার হয়নি। ন্যাটো মহাসচিব আরো বলেন, ‘রাশিয়া সিরিয়ায় শক্তিশালী সামরিক অবস্থান গড়ে তুলছে। তারা সেখনে স্থল এবং নৌ সেনাও পাঠিয়েছে। রাশিয়ার এ সামরিক সক্ষমতাবৃদ্ধি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি মস্কোর প্রতি নেটোর সঙ্গে ক্রমাগত বাড়তে থাকা এ উত্তেজনা পরিহারের আহ্বানও জানান।
 
রাশিয়ার দাবি,  সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং চরমপন্থী জঙ্গিরা তাদের হামলার লক্ষ্য। যদিও নেটো ও তাদের মিত্র দেশগুলোর আশঙ্কা, সিরিয়ার বিদ্রোহীদের দমনে রাশিয়া তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সহযোগিতা করতেই বিমান হামলা চালাচ্ছে।