নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা। এমপি হোস্টেলে বিফ পার্টির আয়োজন করেছিলেন স্বতন্ত্র বিধায়ক শেখ আবদুল রশিদ। সেই ‘অপরাধে’ রশিদকে বৃহস্পতিবার বিধানসভাকক্ষেই পেটালেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিধায়করা। খবর আনন্দবাজার ও হিন্দুস্তান টাইমসের।
রশিদ বুধবার রাতে এমপি হোস্টেলের লনে একটি পার্টির আয়োজন করেছিলেন। ওই পার্টিতে গরুর মাংস দিয়ে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হয়। বিজেপি বিধায়করা গরুর মাংসের পার্টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। তারা সেই রাগেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিধানসভার ভেতর। বৃহস্পতিবার সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়েন রশিদের ওপর। এ সময় তাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন বিরোধীদলের সদস্যরা।
রশিদ বিজেপি বিধায়কদের কঠোর শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই বিধায়কদের আচরণ নজিরবিহীন এবং কোনোভাবেই তা বরদাস্ত করা যায় না। তার ওপর হামলায় জড়িত বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছেও দাবি জানিয়েছেন।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বিজেপি বিধায়কদের ওই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান দিতে হবে। কিন্তু হিংসা কখনো কোনো সমাধান হতে পারে না। আমরা এখানে কথা বলতে এসেছি, কাউকে মারতে নয়। আমাদের ধর্মে বলে, মদ্যপান অপরাধ। তা বলে কি আমি মদ্যপায়ীদের বাড়িতে হামলা চালাতে শুরু করব। কোনো কিছু কারো ওপর চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়।’
এদিকে, গত বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, দেশে যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নয়াদিল্লীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, উত্তর প্রদেশে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। উল্লেখ্য, উত্তর প্রদেশের দাদরি এলাকায় একটি গরু জবাইর অভিযোগে উচ্ছৃঙ্খল জনতা ৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইখলাককে তার বাড়ি থেকে টেনে বের করে এনে পিটিয়ে হত্যা করে।
রাজনাথ সিং বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউপি সরকারের কাছে ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছে এবং এ ধরণের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাজনাথ সিং ও অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি দাদরি এলাকায় ইখলাককে হত্যার ব্যাপারে কথা বলেন। তবে তারা এর নিন্দা জানাননি। তারা হামলার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রত্যেক নাগরিকের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, এটা বজায় রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব।