‘ভ্রমণ সতর্কতার নামে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন পশ্চিমা রাষ্ট্রের চাপ সৃষ্টির নতুন প্রয়াস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
দলটি বলেছে, ‘বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের উচিত বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে সার্বিকভাবে সহায়তা করা।’
ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে।
বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর আরো হামলার ঘটনা হতে পারে’ এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে ভ্রমণ সতর্কতা জারির বিষয়ে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, ‘বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনা জারি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে বিরূপ ও নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টির জন্যই অত্যন্ত কৌশলে এ ভ্রমণ সতর্কতার নামে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
দলটি বলেছে, ‘সম্প্র্রতি বাংলাদেশে দুজন বিদেশি নাগরিকের দুঃখজনক হত্যার বিষয়ে যে প্রমাণ মিলছে, তাতে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশস্থ দূতাবাস নিশ্চিত করেই জানে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেও এ ধরনের হত্যা-হামলা ঘটেছে। সম্প্র্রতি যুক্তরাষ্ট্রে দুটি কলেজে অস্ত্রধারীদের সন্ত্রাসী হামলায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইতোপূর্বেও সেখানে আকষ্মিক সন্ত্রাসী হামলায় অনেকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিদেশি নাগরিকেরা নিরাপদ নন। তাই বলে কি বিদেশি নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট দেশ সেখানে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে? খোদ যুক্তরাজ্যেরও কি এই সাহস আছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে তাদের নাগরিকদের ভ্রমণ সফরে সতর্কতা জারি করে। যুক্তরাজ্যের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—বাংলাদেশে প্রতিবছর ৭৫ হাজার যুক্তরাজ্যের নাগরিক ভ্রমণ করে। এ যাবত্ তাদের নিরাপত্তার কোনো অভাব বোধ হয়নি। বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনীতিকেরা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে।’